॥ পানছড়ি প্রতিনিধি ॥
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়ি উপজেলার লোগাং ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকা দিয়ে ৩০ বাংলাদেশীকে চোখ বেঁধে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়াদের আশ্রয় দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
সুত্র জানায় বুধবার (৭ মে) ভোর রাতে উপজেলার সীমান্তের রূপসেন পাড়া ও বিটিলা এলাকা দিয়ে ভারতের বিএসএফ ৩০ জন নারী-শিশু ও পুরুষকে বাংলাদেশ সীমান্তে ডুকিয়ে দেয়। দুর্গম পাহাড়ী এলাকা ও উপজাতীয় আঞ্চলিক সংগঠনের আধিপত্য বিস্তারে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক থাকায় মানুষ শুন্য এলাকায় বিজিবি’র টহল দল তাদের আটক করে। পরবর্তীতে রাত আটটায় লোগাং বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিজিবি ও পুলিশ হেফাজতে লোগাং বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় দেয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) সকালে বিএসএফের পুশ ইন করা খোকন মৃধা ও ফারুখ শেখের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা এক সময় বাংলাদেশের নড়াইল, যশোর খুলনা এলাকায় বসবাস করতো। ২৮-৩০ বছর আগে কাজের জন্য অবৈধভাবে বেনাপুল হয়ে সীমান্ত পার হয়ে ভারতের গুজরাটের আন্দামানে ব্যবসা ও কাজ কর্ম করে। পর্যায়ক্রমে পরিবারের লোকজন নিয়ে যায়। ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন সময় ভারতের পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গুজরাটের একটি জেলে আটকে রাখে এবং পাশবিক নির্যাতন চালায়।
পুশইন করা আগতদের ভাষ্যমতে, গত তিন চারদিন আগে তাদের জেল থেকে বের করে গুজরাট হতে দুটি বিমান যোগে আনুমানিক ৪৫০ জনকে প্রথমে ত্রিপুরা রাজ্যে নিয়ে আসা হয় এবং ছয় ঘন্টার অধিক সময় বাসে করে সীমান্তে আনা হয়েছে। এরপর পরিকল্পনা মাফিক পর্যায়ক্রমে তদেরকে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশে পুশ ইন করানো হচ্ছে।
পানছড়ি থানার এসআই সুকান্ত সাহা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছি, উর্ধতন কর্মকর্তার নির্দেশ পেলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
পানছড়ি ব্যাটালিয়ন ৩ বিজিবি সুত্র জানায়, সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারীসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার নিমিত্তে বিজিবি নিয়োজিত রয়েছে।
পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা নাসরিন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পানছড়ির দূর্গম সীমান্তে বিএসএফের পুশ করা ৩০ জন নারী পুরুষ ও শিশুকে প্রাথমিকভাবে লোগাং বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাখা হয়েছে। লোগাং ইউপি চেয়ারম্যান জয় কুমার চাকমা ও ইউপি সদস্য সাহেব আলীর তত্বাবধানে উপজেলা প্রসাশনের পক্ষ থেকে তাদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মকর্তা ডাক্তার অনুতোষ চাকমার তত্বাবধানে চিকিৎসক দ্বারা স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। আগতদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যা নির্দেশনা আসে সেভাবে যাচাই বাছাই করে তাদের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, একই দিনে জেলার পানছড়ি উপজেলার সীমান্ত দিয়ে ৩০ জন, মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতীর শান্তিপুর সীমান্ত দিয়ে ২৭ জন, আচালং এলাকায় ২৩ জন এবং রামগড় উপজেলার সীমান্ত দিয়ে ১ জনসহ মোট ৮১ জনকে পুশ ইন করার খবর পাওয়া গিয়েছে।