॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
রাঙ্গামাটির পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে গেছে ৯০টির অধিক রিসোর্ট ও কটেজ এবং দোকান। সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) দুপুর ১টার দিকে অবকাশ রিসোর্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে জানা যায়। মুহুর্তেই আগুন আশপাশের রিসোর্টে ছড়িয়ে পড়ে। বেলা ৩টা পর্যন্ত ৯০-৯৫টির বেশি রিসোর্ট-কটেজে আগুনে পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য। এখনো পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার দুপুরে প্রথমে সাজেক অবকাশ রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পরে মুহূর্তে আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে এরই মধ্যে সাজেক অবকাশ রিসোর্ট, ইকো ভ্যালি রিসোর্ট, মেঘছুট রিসোর্ট, মনটানা রেস্টুরেন্ট, মারুয়াতি রেস্টুরেন্টসহ ১৫টি রিসোর্ট ও কটেজ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। স্থানীয়দের সাথে নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রাণপন লড়ে যায় সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন, ২৭ ও ৫৪ বিজিবির জোয়ানরা।
রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, বেলা একটার দিকে রুইলুই ভ্যালির হেডম্যান লালথাংয়া লুসাইয়ের বাসভবনের পাশে সাজেক ইকো ভ্যালি রিসোর্টে প্রথমে আগুন লাগে। পরে তা আশপাশের বসতঘর ও রিসোর্ট-কটেজে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কয়েক শ পর্যটক আতঙ্কিত হয়ে রিসোর্ট-কটেজ থেকে বেরিয়ে যান। বেলা আড়াইটা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছায়নি। দুর্গম রাস্তার কারণে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো পৌঁছাতে সময় লাগেছে এবং পানির সংকট থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে।
সাজেকের হিলভিউ রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী ইন্দ্রজিৎ চাকমা জানান, আগুন নেভাতে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় লোকজন চেষ্টা চালাচ্ছেন। ইতোমধ্যে ৩০-৩৫টির বেশী রিসোর্ট-কটেজ পুড়ে গেছে। দীঘিনালা থেকে ফায়ার সার্ভিস সাজেকে পৌঁছাতে কমপক্ষে দুই ঘণ্টা লেগে যায়। এখানে যদি একটি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট থাকতে এত ক্ষয়ক্ষতি হতো না।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরিন আকতার জানান, দুপুরের দিকে সাজেকের একটি রিসোর্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে। তাৎক্ষনিক ভাবে সেনাবাহিনী ও স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালায়। সাজেকে ফায়ার সার্ভিসের কোনো ইউনিট না থাকায় খবর পাওয়ার সাথে সাথে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালায়। তবে কি ভাবে আগুণের সুত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তা পরে জানা যাবে বলে জানান তিনি।
এদিকে বিকেলে পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালীতে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছেন সেনাবাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তা ও বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসন।
