॥ কক্সবাজার সংবাদদাতা ॥
কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারের জন্য পাহাড়ে জড়ো করে রাখা একটি তাবু ঘর থেকে ৬৬ জনকে উদ্ধার করেছে মডেল থানা পুলিশ। এসময় পাচারকাজে জড়িত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের হেফাজতে থাকা ৪ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ১টি করে রামদা ও কিরিচ উদ্ধার করা হয়।
রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) ভোর রাত সাড়ে তিনটার টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মধ্যম কচ্চপিয়া এালাকার কবরস্থান সংলগ্ন কচ্চপিয়া পাহাড়ের উপর আব্দুল আমিনের অস্থায়ী তাবু ঘরে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গিয়াস উদ্দিন উক্ত তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, টেকনাফের বাহারছড়ায় পাহাড়ে উপর একটি সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্র জোর করে নারী-পুরুষ ও শিশুদেরকে অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে আটক করে রেখেছে। এমন গোপন সংবাদে তাৎক্ষণিকভাবে একদল পুলিশ ওই স্থানে অভিযানে যায়। পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালানোর সময় ৫ জনকে আটক করে এবং ৬৬ জন ভিটিমকে উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে ১৮ জন পুরুষ, ১১ জন মহিলা ও ৩৭ জন শিশু রয়েছে।
এসময় ধৃতরা হচ্ছে- টেকনাফ পৌরসভার শিলবনিশা গ্রামের আবদুল শুক্কুরের পুত্র রাশেদ (২৫), বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া গ্রামের সুলতান আহমদের পুত্র সালেহ আহাম্মদ (৩৫), নুরুল কবির (২৭),রশিদ আহমেদের পুত্র সৈয়দ আলম (২৪) ও চট্টগ্রামের সন্দীপ থানার গাছুয়া এলাকার আবদুল গফুরের পুত্র কামরুল ইসলাম প্রকাশ মোঃ শিপন (৩২)।
এদিকে উদ্ধার হওয়া ভিকটিমদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশী ও বাকিরা টেকনাফ-উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাস্তুচূত মায়ানমার রোহিঙ্গা নাগরিক এবং রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা। তারা আর্থ-সামাজিক অনগ্রসরতা ও পরিবেশগত অসহায়ত্বকে পুঁজি করে উন্নত জীবন-যাপন, অধিক বেতনে চাকুরী ও অবিবাহিত নারীদেরকে বিবাহের মিথ্যা প্রলোভন দেখাইয়া প্রতারণা পূর্বক ছল-চাতুরীর আশ্রয় নিয়ে যৌন নিপীড়ন, প্রতারণামূলক বিবাহ ও জবরদস্তিমূলক শ্রমসেবা আদায়সহ ১০-১৫ দিন যাবৎ ধাপে ধাপে ধৃত পাচারকারীদের পরস্পর যোগসাজশে ভিকটিমদের পাহাড়ের তাবুতে এনে মালয়েশিয়া পাচারের জন্য জড়ো করে রাখে।
এঘটনায় আরো ৭ জনকে জ্ঞাত পলাতক ও আরো ৯-১০ জনকে অজ্ঞাত পলাতক আসামি করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান ওসি গিয়াস উদ্দিন।
