সীমান্তে ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া নির্দেশ জেলা প্রশাসকের

87

॥ শামীম ইকবাল চৌধুরী, নাইক্ষ্যংছড়ি ॥
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্ট জুড়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে অব্যাহত গোলাবারুদ বর্ষণে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সীমান্তে ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
ইতিমধ্যে প্রশাসন বিরূপ পরিস্থিতিতে অতি ঝুঁকিতে থাকা সীমান্তের অর্ধ-সহস্রাধিক পরিবারকে সরিয়ে নিতে প্রাথমিক ভাবে নির্দেশনা দেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের।
মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করে বলেন, “সীমান্ত এলাকায় ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিবেচনায় রেখেছি। এ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিজিবি ও পুলিশসহ সীমান্ত সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় জরুরি ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকজনকে সরিয়ে আশ্রয় স্থল হিসেবে ঘুমধুম ৭নং ওয়ার্ডের ১নং উত্তর ঘুমধুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনকে অস্থায়ী শিবির ঘোষণা করা হয়েছে।
৬ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, যখন থেকে তুমব্রু সীন্তে ওপারে মিয়ানমার অভ্যান্তরে গোলাগুলিতে মাঝে মধ্যে এপারে ভারী অস্ত্রের গোলি ছুড়ে এসে পড়ে। এতে সীমান্তের একাধিক লোকজন হতাহতের ঘটনাও ঘটে।
তারই প্রেক্ষিতে প্রশাসন নিবিড় চিন্তা ভাবনা করে সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকজনকে সরিয়ে নিয়ে ঘোষিত অস্থায়ী শিবির হিসেবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনে আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এ চলমান পরিস্থিতে গত সোমবার সীমান্তের ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আর এদিকে, আর্থভাবে অস্থায়ী শিবিরে যেতে পারছেনা তাঁদেরকে গাড়ীভাড়ার অর্থ সহযোগিতায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ দিচ্ছেন বলে জানান পরিষদের দায়িত্বরত ২নং ওয়ার্ডের আনসার সদস্য আমির বাশার।
উল্লেখ্য, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তমব্রু, কোনার পাড়া, উত্তর পাড়া ও বাইশফাঁড়িসহ বিভিন্ন সীমান্তে মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষী পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। যা এখন ছড়িয়ে পড়েছে পুরো নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার মিয়ানমার সীমান্ত জুড়ে। প্রায় প্রতিদিনই দিনে ও রাতে থেমে থেমে গোলাবারুদ বর্ষণ; মাঝেমধ্যে হেলিকপ্টার ও ফাইটিং জেট বিমান থেকে ছোঁড়া হচ্ছে গোলাবারুদ।
৬ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সকাল ৬টা পর থেকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আবারো গোলাগুলি শুরু হয়। সকাল ৯টার সময় ঘুমধুমে এক মুক্তিযুদ্ধার বসতভিটায় মিয়ানমার থেকে মটরশেল ছুঁড়ে এসেছে। কোন হতাহত হয়নি। এতে আতংকিত সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা।