দৃশ্যমান হচ্ছে সীমান্ত সড়কঃ বদলে যাচ্ছে পার্বত্য এলাকার দৃশ্যপট, বাড়ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা

167

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
দুর্গমতার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামকে এক সময় পিছিয়ে পড়া অঞ্চল বলা হলেও বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে পার্বত্য এলাকার আনাচে-কানাচে নবযুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। আর এই বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, তথ্য প্রযুক্তির, পর্যটন শিল্পের প্রসান যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে তেমনী সড়ক যোগাযোগে অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটেছে। এতে করে বদলে যাচ্ছে পার্বত্য এলাকার দৃশ্যপট, হচ্ছে আমূল পরিবর্তন এবং বাড়ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পাহাড়ের দূর্গম আর ‘দূর্গম’ থাকছে না।
পার্বত্য চট্টগ্রামে দৃশ্যপট বদলে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক ইচ্ছায় ২০১৯ সাল থেকে সীমান্ত সড়ক নির্মাণ কাজের সূচনা করে। এতে করে তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান জেলায় সীমান্ত সড়ক নির্মাণের কারণে পাহাড়ি জনপদগুলোতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগতে শুরু করে। আর সীমান্ত সড়ককে ঘিরে পাহাড়ের মানুষ এখন নতুন ভাবে স্বপ্ন দেখছেন। সীমান্ত সড়ক নির্মাণের কারণে স্থলপথে যোগাযোগের ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যর প্রসার ঘটবে তেমনি যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পর্যটন শিল্পের ব্যাপক উন্নয়ন তরান্বিত হবে। পিছিয়ে পড়া এই পার্বত্য এলাকাগুলো সমৃদ্ধশালী অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
জানা গেছে, সীমান্ত সড়কের মোট দৈর্ঘ্য ১০৩৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে একনেকে ৩১৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের কাজের মধ্যে ৯৫কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ কাজ সম্পন্ন এবং এ বছরে প্রকল্পটির আরও ১৩২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। আর ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে সড়কটি। সংক্ষিপ্ত পরিসরে ছোট-খাটো যানও চলাচল করছে এরি মধ্যে।
অবশিষ্ট ৯০ কিলোমিটার কাজ ২০২৪ সালের জুন মাসে সম্পন্ন করা হবে। দুর্গম পাহাড়কে মূল জনপদের সঙ্গে যুক্ত করছে দীর্ঘ এই সড়কটি। এই সড়ক কক্সবাজারে গিয়ে মিলবে। এই সড়কের কাজ শেষ হলে সীমান্ত এলাকার অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট জনেরা। সীমান্ত সড়কের পুরো কাজ শেষ হলে এটি হবে দীর্ঘ পার্বত্য এলাকার সড়ক নেটওয়ার্ক।
স্থানীয় এলাকার বাসিন্দারা জানান, সীমান্ত সড়ক না হওয়ার কারণে আগে তারা উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে সঠিক মূল্য পেতেন না। যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হওয়ায় এখন পরিবহন ব্যয় কমেছে। পাশাপাশি সঠিক মূল্যও পাচ্ছেন তেমনী তাদের কষ্ট অনেকাংশে কমে এসেছে।
সীমান্ত সড়ক নির্মিত হওয়ায় ভবিষ্যতে আশার আলো দেখছেন দুর্গম পাহাড়ের স্থানীয় মানুষেরা। তাদের আশা এ সড়কের মাধ্যমে তাদের জীবন বদলে যাবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, তথ্য প্রযুক্তির, পর্যটন শিল্পের প্রসার এবং জীবনমানের ব্যাপক পরিবর্তনে সীমান্ত সড়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাহাড়ী এলাকা নিরাপত্তার মধ্যে চলে আসবে। তাদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি হবে। ব্যবসা ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে ও পাহাড়ের কৃষিজাত পণ্য, ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। পিছিয়ে পড়া এই অঞ্চল সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবেও সমৃদ্ধ হবে।