কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধিতে ভাঙ্গনের মুখে রাঙ্গামাটির কাঠালতলী সংযোগ সড়ক বাঁধ

79

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে রাঙ্গামাটির কাঠালতলী ফিসারী সংযোগ সড়ক বাঁধ। সড়ক বাঁধটির ওপর হালকা ও ভারী সব ধরনের যানবাহন চলাচল করে। অতিরিক্ত চাপ ও কম্পনে কারণে যেকোনও সময় সংযোগ সড়ক ভেঙ্গে বন্ধ হয়ে যেতে পারে যানবাহন চলাচল। এমন আশংকায় রাস্তার উপর লাল পতাকা টাঙিয়ে জরুরী সর্তকতা জারী করেছে প্রশাসন। সড়ক বাঁধের ভাঙ্গন প্রতিরোধে গাছের বল্লি ও বালির বস্তা ফেলে সড়কটি রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
১৯৬০ সালে পানি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কর্ণফূলী নদীতে কাপ্তাইয়ে বাঁধ দেয়া হলে কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদের সৃষ্টি হয়। এ হ্রদ ঘেরা রাঙ্গামাটি শহরে যাতায়াতের জন্য বনরূপা, রির্জাভ বাজার ও তবলছড়ি তিনটি এলাকাকে সংযোগ করতে ৬৬৩ মিটার দৈর্ঘের বাঁধের মাধ্যমে সংযোগ সড়ক নির্মান করা হয়। বর্ষায় কাপ্তাই হ্রদের পানি প্রবাহ বেড়ে পানির উচ্ছতা যখন বৃদ্ধি পায়, তখন হ্রদের পানি প্রায় সংযোগ সড়ক বাঁধের উচ্চতায় চলে আসে। ফলে পানির তোড়ে প্রতি বছর রাস্তার দুইপারের জায়গায় ভাঙ্গতে থাকে। এতে সড়কের যে অংশে ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে, সেখানে বল্লি দিয়ে প্রতিরক্ষা দেওয়ার চেষ্ঠা করে সড়ক বিভাগ।
এদিকে রাঙ্গামাটি জেলা শহরের ফিশারি ঘাট থেকে ট্রাক টার্মিনাল পর্যন্ত নির্মিত ওই বাঁধটি শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাঁধটি রাঙ্গামাটি শহরের দুটি অংশকে সংযুক্ত করে রেখেছে। আর প্রায় এক কিলোমিটার দৈর্ঘের ওই সড়ক সংযোগ বাঁধের উভয় পাশে জ্বালানি কাঠ মজুদ রাখা ও মালামাল ওঠানামাসহ পরিবহন শ্রমিকদের গাড়ি ধোয়া-মোছার কারণে ভাঙন ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়লে লক্ষ্য করা যায় বাঁধের বিভিন্ন স্থানে লঞ্চ, ইঞ্জিন চালিত কান্ট্রিবোট, ট্রলার, নৌকায় মালামাল ওঠানামা, গাড়ি পাকিং করা হয়ে থাকে। বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভেঙে গেলে রাঙ্গামাটি শহরের দুই অংশে বিভক্ত হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
অন্যদিকে জনস্বার্থে রাঙ্গামাটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরের ফিশারি ঘাট থেকে ট্রাক টার্মিনাল পর্যন্ত বাঁধে লঞ্চ, ইঞ্জিন চালিত কান্ট্রিবোট, ট্রলার, নৌকায় মালামাল ওঠানামা না করার জন্য নির্দেশ দেয়া সত্বেও মানছে না কেউ।
রাঙ্গামাটি জেলা সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সংযোগ সড়ক বাঁধটি রক্ষার্থে সড়ক বিভাগের ২৩৯ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ৫ হাজার ৪৭০ মিটার রিটেইনিং ওয়াল, ৭ হাজার ৭৩৫ মিটার ড্রেন, ধস প্রতিরোধক কংক্রিট ঢালাই ৭২ হাজার ১৫০ বর্গমিটার। এর মধ্যে ৫ মিটার উচ্চতার রিটেইনিং ওয়াল হবে ৫১টি স্পটে, ৬ মিটার উচ্চতার রিটেইনিং ওয়াল হবে ৭৩টি স্পটে। ৭ মিটার উচ্চতার রিটেইনিং ওয়াল হবে ২৭টি স্পটে। পাইল ফাউন্ডেশনের দৈর্ঘ্য ১২-১৮ মিটার। কিন্তু সেই প্রকল্প থেকে অতিগুরুত্বপূর্ণ হওয়ার পরও বাঁধটি পুরো অংশের কাজ হয়নি।
রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, তখন যে প্রকল্পের মাধ্যমে কাজটি হয়েছিল, সেটার ব্যয়ের সীমাবদ্ধতা ছিল। সেই প্রকল্পে জেলার অনেক জায়গায় কাজ হয়েছে, সেখানে যতটুকু চাহিদা আছে, আমরা তার পুরোপুরি করতে পারি নাই। ফিশারি বাঁধকেও গুরুত্ব দিয়ে শুরু করা হয়েছে, যদিও পুরো কাজ করা সম্ভব হয়নি এখনো। প্রকল্পে সংশোধনী এনে আমরা বাঁধের উত্তর দিকটা পুরোটাই করার উদ্যোগ নিয়েছি। এজন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। আশা করছি আগামী শুষ্ক মৌসুমে বাকি অংশের কাজ শুরু করতে পারবো। আপাতত বাঁধের যে অংশে অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে বা পানির তোড়ে মাটি ভেঙ্গে যাচ্ছে, সেখানে বল্লি দিয়ে ধারক দেয়াল দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সংযোগ বাঁধটি একদিকে যেমন শহর রক্ষা ও সড়ক সংযোগ স্থাপন করেছে অন্যদিকে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়িয়েছে বহুগুণ। পর্যটন শহর রাঙ্গামাটিতে প্রবেশ করতেই ফিসারি সংযোগ সড়ক মুগ্ধ করে পথচারীদের। রাঙ্গামাটি শহরবাসীর কাছেও এ স্থানটি খুবই প্রিয়। প্রতিদিনই এ সড়কে শহরবাসীদের ঘুরতে আসতে দেখা যায়।
এর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একাধিকবার লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারের মাধ্যমে ঘেরাবেড়ার কাজ করলেও তাতে তেমন কোনো কাজ হয়নি। রাস্তার দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হলেও মজবুত ঘেরাবেড়া না থাকায় সেগুলো গরু, ছাগলে খেয়ে উজাড় করে ফেলে। বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ার কারণে ভাঙ্গন বেড়ে বাঁধটির মাটি সরে যাচ্ছে। ফলে বাঁধের মাটি নরম হয়ে হ্রদের গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।