পানছড়িতে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত প্রতিরোধ কমিটির বিক্ষোভ, অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের আহ্বান

55

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ-খাগড়াছড়ির পানছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে পানছড়ি ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত প্রতিরোধ কমিটি। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন এলাকার জনপ্রতিনিধিবৃন্দ।
শনিবার (১৮ মার্চ) সকাল ১১টার সময় “পানছড়িতে জেএসএসের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশের প্রতিবাদে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে” এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশের আগে বাবুড়ো পাড়া বাজার হতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি করল্যাছড়ি স্কুলের সামনে এসে সমাবেশের মধ্যদিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে পানছড়ি ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক ও পানছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শান্তি জীবন চাকমার সভাপতিত্বে ও চেঙ্গী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান অনিল চন্দ্র চাকমার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, চেঙ্গী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কালাচাঁদ চাকমা। এতে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন লোগাং ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান জয় কুমার চাকমা, লতিবান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভূমিধর রোয়াজা, পানছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উচিত মনি চাকমা, চেঙ্গী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আনন্দ জয় চাকমা ও লোগাং ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য মিতি চাকমা ও পানছড়ি উপজেলা কার্বারী এসোসিয়েশনের সদস্য ভারতবর্ষ পাড়ার কার্বারী তরুণ জ্যোতি চাকমা।
স্বাগত বক্তব্যে কালাচাঁদ চাকমা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণও অংশগ্রহণ করেছিলেন। আমাদের আশা ছিল বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার সাথে সাথে জুম্ম জনগণ সুখে থাকবে। কিন্তু না, আমরা যুগ যুগ ধরে অত্যাচারিত, নিপীড়িত-নির্যাতিত এবং স্বাধীকার, অধিকার হারা। এখনো আমরা অধিকার পাইনি।
তিনি বলেন, আমাদের বৈ-সা-বি উৎসব সমাগত। কিন্তু দুঃখের বিষয় গতকাল ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতের খবর পেয়ে কখন কি হয় তা নিয়ে সারারাত ঘুমাতে পারিনি। এই সময়ে যদি ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত আরো লেগে যায় তাহলে আমাদের জনগণের অবস্থা কি হবে?
ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতে আমরা অনেক ভাই হারিয়েছি, আমাদের অনেক মা-বোনের বুক খালি হয়েছে, আমরা সেই ’৮৬ সালে পানছড়ি গণহত্যা ও ’৯২ সালে লোগাং গণহত্যা দেখেছি। আমরা আর কত ঘটনা দেখবো? আমাদের হুঁশ এখনো হয়নি, এখনো ভাইয়ে ভাইয়ে মারামারি-হানাহানি করছি।
তিনি জনসংহতি সমিতির সভাপতি সন্তু লারমার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‌‘অচিরেই ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধ করুন, জুম্ম জনগণকে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত থেকে মুক্ত করুন’। তিনি ইউপিডিএফ সভাপতির প্রতিও একই আহ্বান জানান।
লোগাং ইউপি চেয়ারম্যান জয় কুমার চাকমা বলেন, গতকাল মাচ্ছ্যছড়ায় ২ দলের সংঘর্ষের ঘটনা সম্পর্কে আমরা নিশ্চয় সবাই জানি। এই ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতের কারণে আমরা অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হচ্ছি। সেই ’৮৩ সাল থেকে আজ পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতের ইতিহাস অনেক লম্বা হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, সামনে আমাদের বৈ-সা-বি উৎসব আসছে। ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতের মাধ্যমে যদি পরিবেশ-পরিস্থিতি খারাপ করে ফেলি তাহলে আমরা কিভাবে এই উৎসব পালন করবো? কাজেই আমরা চাই না এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক।
তিনি আরো বলেন, আমরা এলাকাবাসী সকলে শান্তিতে থাকতে চাই। ’৮৩ সাল থেকে আমরা দেখেছি অনেক মায়ের বুক খালি হয়েছে, অনেকে সন্তানহারা হয়েছে, অনেকে পিতা হারা, অনেকে স্বামী, আত্মীয়-স্বজন হারা হয়েছে। কাজেই এ ধরনের ঘটনা আর আমরা দেখতে চাই না। গতকাল মাছ্যছড়ার ২ দলের সংঘর্ষের পর আরো বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কিন্তু আমরা এলাকাবাসী আর সেটা হতে দেবো না। আমরা যদি সবাই সজাগ থাকি তাহলে কেউই আর এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারবে না।
তিনি বলেন, ইউপিডিএফ’র কর্মী মরলেও জুম্ম জাতি, জেএসএস’র কর্মী মরলেও জুম্ম জাতি। যদি সংঘাত অব্যাহত থাকে তাহলে আমাদের জাতি রক্ষায় কূল কিনারা পাবো না। কাজেই, সংঘাত বন্ধ করতে জনগণকে সোচ্চার ও সচেতন হতে হবে। আমরা জনগণ আর সংঘাত চাই না তা দলগুলোকে জানিয়ে দিতে হবে। যারা সংঘাত বন্ধ করতে চায় না তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে।
তিনি জেএসএস ও ইউপিডিএফকে অচিরেই সংঘাত বন্ধ করে জুম্ম জাতিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার আহ্বান জানান।
লতিবান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভূমিধর রোয়াজা বলেন, আমাদের নিজেদের মধ্যে সংঘাত, মারামারি জাতির জন্য ক্ষতি ছাড়া কোন লাভ হয় না। ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত আমাদের চলার পথে বিভিন্ন বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এই সংঘাত বন্ধের জন্য আজকে এই সমাবেশে মিলিত হয়েছি। এই সমাবেশ থেকে আমরা জেএসএস সভাপতি সন্তু লারমা ও ইউপিডিএফ সভাপতি প্রসিত খীসাকে অচিরেই ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি উভয় দলের উদ্দেশ্যে বলেন, জেএসএস ও ইউপিডিএফ-কে অবশ্যই সমাঝোতার ভিত্তিতে চলতে হবে। না হলে আমরা জাতির জন্য কিভাবে আন্দোলন করবো, আমাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য কিভাবে অর্জিত হবে?
তিনি বলেন, গতকালকের সংঘাতের ঘটনায় আমরা অত্যন্ত চিন্তিত। সামনে আমাদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব ঘনিয়ে আসছে। আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব পালন করতে চাই। আমরা সবাই শান্তিতে বসবাস করতে চাই।
পানছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান উচিত মনি চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আমরা নিপীড়িত-নির্যাতিত। কিন্তু এই নিপীড়ন-নির্যাতনের মধ্যেও আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখি। কিন্তু দিনের পর দিন, যুগের পর যুগ যদি আমাদের ভাইয়ে ভাইয়ে সংঘাত লেগে থাকে তাহলে আমরা কখনোই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারবো না।
তিনি বলেন, আমাদের অনেক মেধাবি ছাত্র রয়েছে, যারা সমাজকে এগিয়ে নিতে পারে। কিন্তু তারা সামনে আসতে পারছে না ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতের কারণে। বন্দুকের নলকে সবাই ভয় পায়। এমনকি মিছিল-মিটিং আসতে পর্যন্ত ভয় পায়। কিন্তু আমরা আর কতদিন এভাবে ভয়ে পালিয়ে থাকতে পারবো? কাজেই, আমাদের সামনে এগিয়ে আসতে হবে। সমাজের লোকজনকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষত যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। শিক্ষিত সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। না হলে আমরা কখনো ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতকে বন্ধ করতে পারবো না। তিনি ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধ করে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে জেএসএস ও ইউপিডিএফের প্রতি আহ্বান জানান।
চেঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনন্দ জয় চাকমা বলেন, আমরা এযাবত বহুবার ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়ে সমাবেশ করেছি। সংঘাত বন্ধের জন্য বার বার আহ্বান জানাচ্ছি। কিন্তু এখনো সেই সংঘাত বন্ধ হয়নি। এটা সত্যিই দুঃখজনক।
তিনি নতুন প্রজন্মের জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যত নিশ্চিত করার জন্য ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা আর কোন ভাই হারাতে চাই না, কোন মায়ের বুক খালি হোক তা চাই না।
তিনি বলেন, আজকে এই সমাবেশের মাধ্যমে আমরা সকলে একমত যে, আমরা কেউই সংঘাত চাই না। আমরা সবাই সংঘাতের বিরুদ্ধে। তাই আজকে এখানে যারা উপস্থিত হয়েছেন, আর যারা উপস্থিত হতে পারেন নাই সকলে নিজ নিজ জায়গা থেকে সংঘাত বন্ধ করার জন্য কাজ করতে হবে। কারণ আমরা আর আমাদের জুম্ম জাতির ভবিষ্যত নষ্ট হতে দিতে পারি না।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে বিশ্ব ও দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আমরা এখনো সেই ’৮৩ সালের ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতে পড়ে রয়েছি। আমাদের মধ্যে এখনো সেই হিংসা-বিদ্বেষ ধারণ করে রেখেছি। এই হিংসা-বিদ্বেষ আমাদের ভুলে যেতে হবে। না হলে এখনো যে জুম্ম জাতি টিকে রয়েছে ভবিষ্যতে তাও থাকবে না। সুতরাং আমাদের জাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য অচিরেই ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধ হওয়া দরকার।
তিনি বলেন, সংঘাতের কারণে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হচ্ছে। কেউ কোন অপরাধ করলেও তাকে কিছুই করা বা বলা যাচ্ছে না। কারণ সে যদি কোন দলে যোগ দিয়ে প্রতিশোধ নেয় সমাজের মুরুব্বীরা সেই ভয়ে থাকে।
ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত জুম্ম জাতির অন্তরায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতদিন সংঘাত জিইয়ে না থাকলে আমরা জাতিগতভাবে অনেক কিছু অর্জন করতে পারতাম। তিনি ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধ করে জুম্ম জাতির জন্য শান্তি ফিরিয়ে আনতে জেএসএস, ইউপিডিএফসহ সকল দলের প্রতি আহ্বান জানান।
কার্বারী তরুণ জ্যোতি চাকমা বলেন, ১৯৮৩ সাল থেকে আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত চলছে। এটা জাতির জন্য খুবই দুর্ভাগ্যের বিষয়। ভাইয়ে ভাইয়ে মারামারি থাকলে জুম্ম জাতির যে স্বপ্ন, যে অধিকারের জন্য আমরা সংগ্রাম করছি তা আমাদের বিফলে যাবে।
তিনি বলেন, এই সমাবেশে যারা উপস্থিত আছেন তাদের কেউ না কেউ পিতা হারিয়েছেন, কেউ ছেলে হারিয়েছেন, কেউ আত্মীয়-স্বজন হারিয়েছেন। কাজেই আমরা এখানে যারা একত্রিত হয়েছি কেউই আর ভাইয়ে ভাইয়ে সংঘাত চাই না। আমরা এই ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত চিরতরে বন্ধের দাবি জানাই।
তিনি জেএসএস, ইউপিডিএফসহ সকল দলের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা যদি মারামারি, সংঘাতের মধ্যে জর্জরিত থাকেন তাহলে আমরা কিভাবে অধিকার পাবো? প্রকৃত অর্থে যদি জাতির অধিকারের জন্য আন্দোলন করতে হয় তাহলে এই সংঘাত অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।
নারী মেম্বার মিতি চাকমা বলেন, বছরের শেষে আমরা বৈ-সা-বি উদযাপন করি। এই উৎসব যাতে আনন্দ উল্লাসের মধ্যে দিয়ে উদযাপন করতে পারি সেজন্য ইউপিডিএফ ও জেএস‌এসের প্রতি ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।
সমাবেশের সভাপতি ও পানছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান শান্তি জীবন চাকমা গত পরশু থেকে এলাকায় ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, এলাকার জন্য এটা শুভ লক্ষণ নয়। তাই আমাদের সবাইকে সোচ্চার হয়ে এই সংঘাত বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, সামনে জুম্মদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব বৈ-সা-বি রয়েছে। এ উৎসব পালনের জন্য ইতোমধ্যে আমরা কমিটিও গঠন করেছি। কিন্তিু গত পরশু থেকে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতের পরিস্থিতিতে এলাকার জনগণ খুব মন খারাপ করে রয়েছেন। ভাইয়ে ভাইয়ে যদি এ সংঘাত চলমান থাকে তাহলে আসন্ন বৈ-সা-বিতেও হয়তো কান্নান রোল পড়বে। অনেক মায়ের বুক খালি হতে পারে। এ অবস্থা সৃষ্টি হলে কি আমরা উৎসব করতে পারবো? তাই তিনি সুষ্ঠূভাবে বৈ-সা-বি উৎসব পালনের জন্য সংঘাত বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির জন্য জেএসএস ও ইউপিডিএফের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি ভ্রাতৃঘাতি বন্ধের লক্ষ্যে ২০১৮ সালে ইউপিডিএফ ও জেএসএস’র মধ্যে হওয়া সমঝোতা চুক্তি মেনে চলে যার যার এলাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর জন্য সন্তু লারমার প্রতি অনুরোধ জানান।
শান্তি জীবন চাকমা বলেন, যে দল নিজের ভাইয়ের বুকে গুলি চালিয়ে মনে তৃপ্তি পায়, যে দলটি ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত জিইয়ে রাখতে চায়, যে দলটি জনগণের মঙ্গল চায় না, যে দলটি মারামারি করতে প্রস্তুত হয়, মানুষ মারতে পারে সে দলটিকে জাতীয় ও জনগণের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে।
তিনি ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণ যদি একতাবদ্ধ হয় তাহলে যে কোন দল মাথানত করতে বাধ্য হবে। আমরা পানছড়ি এলাকার জনগণ সংঘাত বন্ধের জন্য যা যা করা দরকার তা করতে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছি।
বক্তব্য শেষে তিনি ‘আমরা আর ভাইয়ে ভাইয়ে মারামারি চাই না’ এমন কথার সমর্থন চাইলে উপস্থিত সকলে হাত উঁচিয়ে ‌‘মারামারি চাই না’ বলে তার কথার প্রতি সমর্থন জানান।