দীঘিনালায় মাদ্রাসার খাবার খেয়ে পূজার ডিউটি করছে নিরাপত্তাকর্মীরা, যা সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত

26

মো: সোহেল রানা, দীঘিনালাঃ-খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় একপাশে মন্দির, অপর পাশে মাদরাসা ও মসজিদ। প্রতিবছর ধর্মীয় উৎসব এলেই সহযোগিতার হাত নিয়ে এগিয়ে আসেন মন্দির ও মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসী। অন্যদিকে শারদীয় দুর্গোৎসবে একটি মন্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও আনসার সদস্যদের তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। অনন্য সম্প্রীতির এমন নিদর্শন। শুধু এবার নয়, ২ দশকেও অধিক বছর ধরে এমন ধারাবাহিকতা রেখেছে দীঘিনালার বোয়ালখালীর ইসলামিয়া মাদরাসা হেফজখানা ও এতিমখানা। দুর্গা পূজার পাশাপাশি হিন্দুদের রাস উৎসব ও মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিল অনুষ্ঠানেও সবার জন্য খাবারের ব্যবস্থা করছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। দীঘিনালার বোয়ালখালী এলাকায় রাস্তার এক পাশে নারায়ণ মন্দিরে চলছে শারদীয় দুর্গোৎসব। রাস্তার অন্য পাশেই বোয়ালখালী ইসলামিয়া মাদ্রাসা হেফজখানা ও এতিম খানা। দুই সম্প্রদায়ের দুই প্রতিষ্ঠান পাশাপাশি হলেও সব কিছুই সেখানে স্বাভাবিক। প্রতিবেশীর মতো একে অপরের সহায়তায় দাঁড়িয়েছে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ। বোয়ালখালী নারায়ণ মন্দিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন পুলিশের পাঁচ সদস্য।
দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য আফজাল হোসেন জানান, সম্প্রীতির অনন্য নজির দেখে তিনি বিস্মিত। পুলিশ আনসার সদস্যদের প্রতি বেলার খাবার আসছে মাদরাসা পক্ষ থেকে। বোয়ালখালী নারায়ণ মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি মৃদুল কান্তি সেন বলেন, ‘মন্দির ও মাদারাসার পাশাপাশি এ সহাবস্থান ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। আমাদের বিভিন্ন উৎসব ও পূজায় সহযোগিতা করছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। মাদরাসার বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও আমরা যাই।’
“বোয়ালখালী মাদরাসার পরিচালক মাওলানা আব্দুল্লাহ মেহেরী বলেন, ‘আমাদের ধর্ম ও নবীজী বলেছেন, প্রত্যেক ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে। মাদরাসায় দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এমন সেবা করার সুযোগ পেয়ে আমিও খুশি। দুর্গা পূজা কিংবা রাস উৎসবসহ মন্দিরের প্রতিটি উৎসবে যদি আমাদের কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন পড়ে, আমরা দিয়ে থাকি। এ ছাড়া মাদরাসায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তারা (হিন্দু সম্প্রদায়) এগিয়ে আসেন।’’
দীঘিনালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ. কাশেম বলেন, ‘এ উপজেলায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদীর্ঘ কাল ধরে অটুট। প্রতিটি উৎসব এখানে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে সার্বজনীন রূপ পায় এবং সকলে মিলে আনন্দ উৎসব পালন করে।’