নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তে কঠোর নজরদারি করছে প্রশাসনঃ জেলা প্রশাসক

14

বান্দরবান প্রতিনিধিঃ-বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি বলেছেন, সীমান্তে কঠোর নজরদারি করছে প্রশাসন। তিনি আরো বলেন, মিয়ানমার থেকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্ত দিয়ে আর কোন রোহিঙ্গা যাতে প্রবেশ করতে না পারে সেটা গোয়েন্দা সংস্থা নজরদারি করছে, আর সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) এর সদস্যরা সর্বোচ্চ সর্তকাবস্থায় কাজ করছে।
বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসক তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সীমান্ত নিয়ে আরো বলেন, সম্প্রতি আমি সীমান্তের পরিস্থিতি পরিদর্শনের জন্য ঘুমধুম, তুমব্রু ও নোম্যান্স ল্যান্ডে ঘুরে এসেছি। আমি যতক্ষণ সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছিলাম সেখানে কোন গোলাগুলির আওয়াজ পায়নি,বর্তমানে আমার মনে হয় সীমান্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। মঙ্গলবার থেকে কক্সবাজারের উখিয়ার কিছু অংশে গোলাগুলির সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে।
জেলা প্রশাসক আরো জানান, সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতি একেক সময় একেকরম হয়ে যাচ্ছে। সীমান্তে যারা বসবাস করছে তারা আতংকিত হয়ে পড়ছে এবং এই পরিস্থিতি যদি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে তবে তাদের জন্য আমরা ব্যবস্থা করবো। ঘুমধুমের তুমব্রু সীমান্তে বাংলাদেশী ৩০০ পরিবারের বসবাস রয়েছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ আমাদের জানিয়েছে এবং প্রতি পরিবারে ৪থেকে ৫জন সদস্য রয়েছে এবং প্রতিটি পরিবারই একান্নবর্তী পরিবার, আর সীমান্তের অবস্থা যদি আরো ঝুঁকিপূণ হয়ে ওঠে তবে আমরা আমাদের জনসাধারণের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তাদের অন্যত্র সরানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। জেলা প্রশাসক সীমান্তবর্তী জনগণকে এই মহুর্তে সর্বাধিক সর্তক থাকার পরামর্শ ও প্রদান করেন।
এদিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমারের মাত্রাতিরিক্ত গোলাবর্ষণ এর শব্দে বান্দরবান সীমান্ত পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়ংকর হয়ে উঠছে। মঙ্গলবার ভোর হতেই থেকে থেমে থেমে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে মর্টারশেল ও গোলাবর্ষণের আওয়াজ পাওয়া গেলেও বধুবার সকাল থেকে কোন গোলাগুলির শব্দ এখনো পাওয়া যায়নি।
গেল একমাস ধরে তুমব্রু সীমান্তের মিয়ানমার অংশে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির (এএ) সঙ্গে মিয়ানমার সরকারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্স অব্যহত রয়েছে,দুপক্ষের সংঘাতে মাঝে মধ্যেই মর্টারশেল এর গোলা এবং ভারি অস্ত্রের গুলি এসে পড়ছে বাংলাদেশ ভূখন্ডের তুমব্রু সীমান্তে। সীমান্তের এমন পরিস্থিতিতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু, বাইশফাঁড়ি, রেজু, আমতলী, ফাত্রাঝিরি, চাকমাপাড়াসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয়দের চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাড়ানো হয়েছে টহল।
প্রসঙ্গত, গত ২৮আগস্ট মিয়ানমার থেকে ছোড়া দু’টি মর্টার শেল অবিস্ফোরিত অবস্থায় নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমের তুমব্রু উত্তর মসজিদের কাছে পড়ে। ৯সেপ্টেম্বর একে ৪৭এর গুলি এসে পড়ে তুমব্রু এলাকায়। সর্বশেষ গত শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশি যুবক আহত ও রাতে মর্টার শেলের আঘাতে এক রোহিঙ্গা নিহত ও পাঁচ রোহিঙ্গা আহত হন। এরপর স্থানীয়দের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে।