পার্বত্য জেলা বান্দরবানে মাল্টা ফসলের আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে

6

রাহুল বড়ুয়া ছোটন, বান্দরবানঃ-বান্দরবানে মাল্টা ফসলের আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলা রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি, নাইক্ষ্যংছড়ি, আলীকদম, লামা এবং বান্দরবান সদর উপজেলায় লেবু জাতীয় ফসল যেমন মাল্টা, কমলা, জাম্বুরা, লেবু প্রচুর পরিমানে উৎপাদন হয়েছে। তবে এখানকার মাটি, জলবায়ু লেবু জাতীয় ফসলের আবাদের জন্য খুবই উপযোগি। লেবুজাতীয় ফসলের মধ্যে মাল্টা অন্যতম। তবে প্রধান জাত হলো বারি মাল্টা। চলতি বছরে বান্দরবান জেলায় ৩শত ৭৬ হেক্টর পাহাড়ী জমিতে মাল্টার আবাদ হয়েছে। এতে উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১শত মে:টন।
বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের ক্যামলং ব্লকের কৃষক অংজাইউ মার্মা জানান, চার বছর আগে ক্যামলং ব্লকে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুনমুন বিশ্বাস এর সহযোগিতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হতে সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প ও রাজস্ব খাত হতে যথাক্রমে ৮০ ও ৪০ টি সবর্মোট ১২০ টি চারা নিয়ে বারি মাল্টা-১ জাতের বাগান করেন। সার ও অন্যান্য উপকরণ উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পাই, কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের সঠিক পরামর্শে রোগ বালাই, আগাছা পরিস্কারসহ আন্তঃ পরিচর্যা করি। গতবছর থেকে ফলন দিচ্ছে, গত বছরের চেয়ে এই বছর অধিক ফলন এবং প্রায় সব গাছেই ফলন এসেছে। স্থানীয় ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুনমুন বিশ্বাস জানান, পাহাড়ি আবহাওয়া, জলবায়ু ও মাটি মাল্টা চাষের জন্য খুবই উপযোগী বিধায় পাহাড়ের কৃষক অন্যান্য ফসলের সাথে মাল্টা চাষে খুবই আগ্রহী হচ্ছে। তবে বারি মাল্টা -১ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেশি। মাল্টা জাতীয় ফসলের স¤প্রসারণ, ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প হতে কুহালং ইউনিয়নে আরো নতুন বারি মাল্টা ১ জাতের বাগান স্থাপন করা হয়েছে।
বান্দরবান সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ ওমর ফারুক বলেন, বান্দরবানের মাটি অম্লীয় হওয়ায় মাল্টা ফসলের চাষের উপযোগী। তবে প্রকল্প হতে পুরাতন বাগান পরিচর্যা ও কৃষককে স্প্রে মেশিন, সিকেচার, কলম তৈরির জন্য বাডিং নাইফ, সার, বালাইনাশকও সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ২ বছর কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর হতে সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প, রাজস্ব ও রাজস্ব খাত হতে সর্বপ্রথম বারি মাল্টা ১ জাতের মাল্টার প্রচুর পরিমানে প্রদর্শনী স্থাপন করা হয় যা বর্তমানে ফলন্ত অবস্থায় আছে, বর্তমানে মাল্টা ফসলের স¤প্রসারণ, ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধি শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কৃষকের চাহিদা ভিত্তিক, ৫ শতক, ১০ শতক, ২০ শতক, ৩০ শতক, ৫০ শতক ও ১ একর ধরনের প্রদর্শনী বাগান স্থাপন করা হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মুনমুন বিশ্বাস জানান, কৃষককে আধুনিক পদ্ধতিতে মাল্টা ফসলের আবাদ ও চারা কলম তৈরির উপর হাতেনাতে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। বারি মাল্টা ১ জাতটি বেশ জনপ্রিয়, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খুবই রসালো ও মিষ্টি, এমনকি কাঁচাও মিষ্টি। এই ফল সাধারণত অক্টোবর-নভেম্বর মাসে পাকে। ঐ সময় অন্যান্য ফল বাজারে কম থাকায় দেশীয় বারি মাল্টার বেশ চাহিদা রয়েছে।
এদিকে জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. রফিকুল ইসলাম জানান, দেশে প্রতিবছর ৫ শ কোটি টাকার মাল্টা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের লক্ষ্য হচ্ছে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে যেহেতু দেশীয় ফল বাজারে পাওয়া যায়না ঐ সময়ে দেশের উৎপাদিত মাল্টা, কমলা যেন বাজারে সব সময় পাওয়া যায় এবং বিদেশ হতে আমদানির পরিমান কমিয়ে আনা ও দেশের অর্থ সাশ্রয়ের জন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে।