বান্দরবানে নির্মিত হচ্ছে অনন্য সুন্দর গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহার

23
DCIM100MEDIADJI_0752.JPG

রাহুল বড়ুয়া ছোটন, বান্দরবানঃ-পার্বত্য জেলা বান্দরবান। নদী, পাহাড় ঝর্ণা আর প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যের পাশাপাশি এই জেলায় গড়ে ওঠেছে অসংখ্য বিনোদনস্পট। পর্যটন জেলা হিসেবে বান্দরবানে ছুটে যাচ্ছে অসংখ্য পর্যটক আর এবার পূজারীদের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের মনোরম পরিবেশে সৌন্দর্য্য অবলোকনের জন্য পৌরসভা এলাকার লালমোহন বাহাদুর বাগান এলাকায় নির্মিত হচ্ছে গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহার। আর এই বিহারের নির্মাণের কাজ শেষ হলে পূজারী’রা তাদের ধর্মীয় কর্মকান্ড সম্পাদনের পাশাপাশি দর্শনার্থীরা ও এর সৌন্দর্য্য অবলোকন করতে পারবে বলে আশাবাদ সংশ্লিষ্টদের।
পর্যটন নগরী বান্দরবানের সৌন্দর্য্য দেখে মুগ্ধ হয় সবাই আর এবার ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি সম্পাদনের পাশাপাশি ভ্রমনের জন্য নতুন দুয়ার উন্মোচন হচ্ছে গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহার তৈরির মধ্য দিয়ে। বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের লালমোহন বাহাদুর বাগান এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি এর নিজস্ব জমিতে প্রায় ২একর জায়গা জুড়ে সুদক্ষ কারিগর আর স্থাপত্য শিল্পীর অপরুপ সৌন্দর্য্য নিয়ে নির্মানাধীন রয়েছে এই গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহার এর কাজ। এই বিহার পুরোদমে চালু হলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অর্থনৌতিক অবস্থার উন্নয়নসহ পর্যটকদের বিনোদনে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে আশাবাদ স্থানীয়দের।
লালমোহন বাহাদুর বাগান এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো.সিদ্দিক জানান, এই এলাকায় একটি মনোরম গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহার এর কাজ চলমান রয়েছে আর এই বিহারের কাজ চলমান অবস্থায় প্রতিদিনই অসংখ্য পর্যটক সেটি পরিদর্শনের জন্য ছুটে আসে। তিনি আরো বলেন, এই বিহারটি দেখে যে কারোর মন ভালো হয়ে যাবে আর এটি চালু হলে বান্দরবানের পর্যটনশিল্প আরো এগিয়ে যাবে আর আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য আগের চেয়ে আরো জমজমাট থাকবে।
লালমোহন বাহাদুর বাগান এলাকায় ব্যবসায়ী পরিমল দাশ বলেন, এই গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহার খুবই সুন্দর। এর রং দেখলেই মন ভরে যায়। এটি চালু হলে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীরা এখানে পূজা করবে এবং অন্যান্য ধর্মালম্বীরা এর সৌন্দর্য্য উপভোগে ছুটে আসবে।
প্রধান সড়কের পাশে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ফুট উচ্চতায় নির্মানাধীন এই গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহার এ ইতিমধ্যে নির্মাণ হয়েছে থাইল্যান্ড ও মায়ানমারের বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারের কারুকাজ এর আদলে ১টি ৫৭ফুট উচ্চতার দন্ডায়মান বৌদ্ধ মূর্তি, ১টি সুদৃশ্য গেইট, ২টি সিংহ, ২টি ড্রাগন, ২টি হাতি, ১টি প্যাগোডা, ১টি ফোয়ারা আর ১টি আকর্ষনীয় আসন সহ বিভিন্ন স্থাপনা। বৌদ্ধ বিহারের জন্য ইতিমধ্যে মায়ানমার থেকে আনা হয়েছে ৩টি পিতলের এবং ১টি শ্বেত পাথরের আকর্ষনীয় বৌদ্ধ মুর্তি। বিভিন্ন দেশ থেকে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত অভিজ্ঞ কারুশিল্পীদের সুদক্ষ হাতে প্রতিদিনই চলছে বিহারের সৌন্দর্য্য বর্ধনের কাজ, আর এই বিহার সাধারণ জনগণের প্রবেশের জন্য উন্মুক্ত হলে এর অপরুপ রুপ দেখে পূজারী ও দর্শনার্থীরা বিমোহিত হবে বলে আশাবাদ সকলের।
বিহারে কাজ করা কারুশিল্পী কিমং রাখাইন বলেন, আমি বাংলাদেশের অনেক স্থানে কাজ করেছি তবে বান্দরবানের এই গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহার এর কাজ সম্পূর্ণ আলাদা। কয়েকটি ধাপে ধাপে আমরা পরিকল্পনা করে দন্ডায়মান বৌদ্ধ মূর্তি, সুদৃশ্য প্রবেশ দ্বার, বিশাল আকৃতির হাতি, ড্রাগন আর সিংহসহ মনোরম কয়েকটি স্থাপনা তৈরি করেছি যা দেখতে খুবই চমৎকার।
গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মংহ্লা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি তার জমিতে এই গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহার নির্মাণের কাজ করছেন আর সেজন্য আমরা একটি পরিচালনা কমিটি করে এই ধর্মীয় কাজে সংশ্লিষ্ট রয়েছি, এই বিহার বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের জন্য একটি তীর্থস্থান। এটি চালু হলে ৩ পার্বত্য এলাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানের পূজারীরা এখানে ছুটে আসবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বলেন, আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং স্থানীয় দানবীরদের দান অনুদান আর বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সার্বিক সহযোগিতায় প্রায় কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে এই গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহারের কাজ চলমান রয়েছে, আর সমস্ত কারুকাজ শেষ হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই বিহার পূজারী ও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এই গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহার এ আগামীতেও আরো কাজ করা হবে এবং যে সমস্থ অনাথ শিশু লেখাপড়া করতে পারে না তাদের বিনামুল্যে আবাসিকভাবে বসবাসের সুবিধা নিশ্চিত করে পড়ালেখা করানো হবে। তিনি আরো বলেন, গোল্ডেন বৌদ্ধ বিহার চালু হলে এখানে অনেক পূজারীর আগমন ঘটবে এবং তাদের সার্বিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য বিহার এলাকায় বিভিন্ন স্থাপনা ও সৌন্দর্য্য বর্ধনের কাজ চলমান রয়েছে।