ফুটবলে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পেলেন রাঙ্গামাটির খেলোয়াড় বরুন বিকাশ দেওয়ান

91

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙ্গামাটিঃ-ফুটবলই যার শখ, যার নেশা এবং এক সময় বাংলাদেশের ফুটবল খেলাকে যিনি দেশে বিদেশে তোলে ধরেছিলেন সেই রাঙ্গামাটির কৃতি সন্তান জাতীয় ফুটবলার বরুন বিকাশ দেওয়ান ফুটবলে অসামান্য অবদান রাখায় এবার জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পেলেন।
বুধবার (১১ মে) সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জন্য সুনাম ও দেশের ক্রীড়াঙ্গনে গৌরবোজ্জ্বল বয়ে আনা ৮৫জন ক্রীড়াবিদকে এই পুরস্কার তুলে দিলেন। জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্তদের একটি স্বর্ণপদক, সনদপত্র, নগদ এক লাখ টাকা ও একটি ব্লেজার দেওয়া হয়।
১৯৬৯ সনের ১ ফেব্রুয়ারী রাঙ্গামাটির মাঝের বস্তি এলাকায় জন্ম গ্রহণ করেন বরুন বিকাশ দেওয়ান। ১৯৮৮ সালে অনুর্ধ্ব ১৬ জাতীয় ফুটবল দলে যোগ দেয়ার মাধ্যমে তার ফুটবল খেলা শুরু হয়। এরপর তিনি বাংলাদেশের জাতীয় দলের নিয়মিত খেলোয়ারের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র, মোহামেডান, আবাহনী ক্রীড়া চক্র ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের মত দলের হয়ে খেলেছেন। ১৯৯৫ সনে বার্মা (মায়ানমার) ও ১৯৯৯ সালে কাঠমন্ডু সাফ গেমসে ফুটবলে বাংলাদেশ দলের জয়ের পেছনে তার অবদান ছিলো অনস্বীকার্য।
আর পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে কেউ ক্রীড়া ক্ষেত্রে অবদানের জন্য প্রথমবারের মত জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পেলেন। ২০১৫ সনের বাছাইতে তিনি ফুটবলে অবদান স্বরূপ এই পুরস্কার পেলেন। ২০১৫ সনে ফুটবল ক্যাটাগরীতে আরো পুরস্কার পাচ্ছেন ফুটবলার মো: জুয়েল রানা।
ফুটবল খেলা থেকে অবসর নিয়ে ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে কাজ করছেন বরুন বিকাশ দেওয়ান। রাঙ্গামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার দুইবারের সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি বর্তমানে সহ সভাপতির দাায়িত্ব পালন করছেন। একই সাথে ২০১৭ সনে গড়ে তুলেছেন রাঙ্গামাটি ডায়নামিক ফুটবল একাডেমি নামক একটি ফুটবল একাডেমি যেখানে প্রায় ১২০ জন ক্ষুদে ফুটবলার নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিতো কিন্তু করোনার কারণে খেলাধুলা বন্ধ থাকায় বর্তমানে ৬৫জন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
জাতীয় ফুটবলার বরুন বিকাশ দেওয়ান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই পুরস্কার শুধু আমার একার না, এটা পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের পুরস্কার। তাদের দোয়া ও ভালোবাসা ছিলো বলে আমি এতটুকু পর্যায়ে আসতে পেরেছি। জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে মনোনীত করায় তিনি প্রধানমন্ত্রী ও ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।