ডিজিটাল পদ্ধতি অপব্যবহার করে অ্যানড্রয়েড ফোনে অনলাইন জুয়া, সর্বশান্ত অনেকেই

270

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙ্গামাটিঃ-ডিজিটাল পদ্ধতি অপব্যবহার করে অ্যানড্রয়েড ফোনের মাধ্যমে জমজমাট হয়ে উঠেছে জুয়ার আসর। এটাকে নাম দেয়া হয়েছে-অনলাইন জুয়ার আসর। বিভিন্ন অ্যাপ খুলে চালানো হচ্ছে অনলাইন জুয়া। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা খেলা যায় এইসব খেলা। আর অনলাইন ক্যাসিনোতে আসক্ত হয়ে পড়ছে যুব ও তরুণ সমাজ। এ থেকে বাদ যাচ্ছে না চাকুরীজীবিসহ মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের। যে কারণে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষেরা।
সম্প্রতি বাংলাদেশে ক্যাসিনোর সম্রাটদের অনেকেই রয়েছে কারাগারে। আর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোরতায় প্রকাশ্যে জুয়া-হাউজি নেই বললেই চলে। অথচ দেশের স্কুল-কলেজের ছাত্র, বেকার যুবক ও তরুণ শিক্ষার্থীসহ অনেকেই এসব অনলাইন জুয়ার খেলায় জড়িয়ে যাচ্ছে। একজন থেকে আরেকজন দেখা দেখির মাধ্যমে তরুণসহ মধ্যবিত্তরা অনেকেই কৌতূহল বশত এই খেলা শুরু করার পরেই নেশায় পড়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এভাবে এখন তিনি পার্বত্য জেলায় আনাচে-কানাচে কয়েক হাজার অনলাইন ক্যাসিনোতে পথভ্রষ্ট হচ্ছেন কিশোর-তরুণরা।
অনুমোদনহীন বন্ধ হওয়া সাইট বা নতুন সাইট ব্রাউজ করে জুয়া খেলা চলছে। অনলাইন ক্যাসিনোর সাইটগুলোর ডোমেইন দেশের বাইরে। নির্ধারিত সময় পর পর এসব সাইটের আইপি (ইন্টারনেট প্রটোকল) ঠিকানা পরিবর্তন করে নিয়ন্ত্রণকারীরা। তাই দেশে এইসব অনলাই ক্যাসিনো সাইটগুলো বন্ধ করা যাচ্ছে না। যুবক-তরুণ সমাজ অন্যান্য নেশা ছেড়ে সার্বক্ষণিক ইন্টারনেটে জুয়ার মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের টাকা হারাচ্ছেন। অনলাইন ক্যাসিনো খেলে গুটিকয়েক মানুষ অল্প সময়ে ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ হলেও অধিকাংশ হয়েছেন সর্বস্বান্ত।
অনলাইন এ জুয়ার মধ্যে অন্যতম এ্যাপস হলো, ক্যাসিনো, জিটুইন, মোস্টবেট ও ক্রিকেক্সসহ অসংখ্যা লাইন জুয়া খেলার এ্যাপস রয়েছে। নুন্যতম ১০০/২০০ টাকা থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে ডিপোজিট করে অধিক লাভবান হওয়ার আশায় সর্বশান্ত হচ্ছে অনেকে৷ অনলাইন জুয়া সব থেকে বেশি খেলে থাকেন শিক্ষার্থী ও বেকার তরুনরা। অনেকটাই সহজলভ্য। তাই অনেকেই ঝুঁকে পড়ছেন এই অনলাইন জুয়ার দিকে। এটি এতটাই দ্রুত বিস্তার করেছে যে, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
যারা এ খেলায় বার বার হারবে একসময় তাদের আর বাজি লাগানোর মতো টাকা থাকে না। তখন বাধ্য হয়ে তারা চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ অপরাধজনিত কাজে লিপ্ত হয়। সকল বিষয়ে চিন্তা করে এখনই ব্যবস্থা না নিলে জেলাব্যাপী আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা করছেন সচেতন নাগরিকরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিন পার্বত্য জেলাসহ অন্যান্য উপজেলায় এই জুয়ার মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে শুধুমাত্র উধাও হচ্ছে প্রায় ২০ লক্ষাধিকের অধিক পরিমাণ টাকা। দেশের বিভিন্ন স্থানের ন্যায় তিন পার্বত্য জেলায় দিনরাত মোবাইলে গেম খেলছেন। আর গেমে বিকাশ, রকেট ও নগদের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করে থাকেন তারা। এতে করে দিন দিন এইসব অবৈধ অনলাইন জুয়ার আসর প্রসারিত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জুয়ারি জানান, অতীতে তিনি ছোটখাটো ব্যবসা করে পরিবার পরিজন নিয়ে ভালভাবেই দিনযাপন করছিলেন৷ এক বন্ধুর মাধ্যমে অনলাইনের মাধ্যমে এ্যাপস ব্যবহার করে শুরু করেন অন-লাইন জুয়া। এরপর অধিক লাভবান হওয়ার আশায় একপর্যায়ে তার ব্যবসা বন্ধ করে নিয়মিত খেলা চালিয়ে যান। বর্তমানে সর্বস্ব হারিয়ে খুবই দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন তিনি।
এবিষয়ে একাধিক জুয়ারি জানান, শুরুর দিকে কিছুটা লাভবান হলেও বর্তমানে তার সবাই নিঃস্ব প্রায়। গেইম লেখতে গিয়ে লাভবান হওয়ার চেয়ে গচ্চা দিচ্ছেন বেশী। আর খেলতে খেলেতে তাদের এটা অনেকের নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা আরও জানান শুধুমাত্র শিক্ষার্থী কিংবা তরুন নয়। সকল বয়সী লোকজনই এ অনলাইন জুয়ার আসক্তিতে সর্বস্ব হারিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ জুয়া বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ। পাশাপাশি অবিভাবকদের সচেতনতাও অত্যন্ত জরুরি। আর নজরদারির মাধ্যমে অনলাইন জুয়া খেলা ব্যবহার বন্ধ করা না গেলে অনলাইন ক্যাসিনো আরো ভয়াবহ রূপ নেবে। এমন চলতে থাকলে আমাদের দেশের কষ্টের অর্জিত টাকা হরহামেশা বিদেশে পাচার হতে থাকবে। এই জন্য সরকারকে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের মাধ্যমে কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।