পর্যটনসহ যেসব বিভাগে সমম্বয় নেই সেসবের আইন সংশোধন জরুরী

26

আলহাজ্ব এ কে এম মকছুদ আহমেদঃ-রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলারয় পর্যটনসহ যেসব বিভাগে সমন্বয় নেই সেইসব বিভাগের আইন সংশোধন করে জরুরী ভাবে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। দ্বৈত শাসনের কারণে অনেক উন্নয়ন কাজ পাহাড়ে ব্যাহত হচ্ছে।
পর্যটকদের সহজ এবং নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে করেরহাট-রামগড়, খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি-বান্দরবান-কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা করলে পর্যটককেরা অনেক তাড়াতাড়ি নিদিষ্ট গন্তব্যে পৌছাতে পারবে। বর্তমানে ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটি পৌছতে সময় লাগে ৮/৯ ঘন্টা। সরাসরি ড়ক যোগাযোগ করা গেলে ৫/৬ ঘন্টায় পৌছানো যাবে।
বর্তমানে সেনাবাহিনী মহালছড়ি-সিন্দুকছড়ি যে উন্নতমানের সড়ক নির্মাণ করেছে সে রাস্তার সাথে সংযোগ করে রাস্তা নির্মাণ করতে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেয়া হলে অনেক কম সময়ে কম খরচে রাস্তা নির্মান করা সম্ভব। অন্যদিকে, দেশী-বিদেশী পর্যটকদের বিশেষ করে নৌ-পথে নিাপত্তা না দিলে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানো যাবে না।
বিদেশী পর্যটকদের জন্য যাতাযাতে আইন সহজ করতে হবে। যাতে বিনা ভোগান্তিতে বিদেশী পর্যটককেরা ভ্রমন করতে পারে। বিদেশী পর্যটকদের সুবিধার্থে চট্টগ্রাম শহরের বাস ষ্টেশনে অথবা রাবার বাগান গোদারপাড় আর্মি চেক পোষ্টে অনুমতি দেয়ার ব্যবস্থা করলে অনেক সুবিধা হবে।
বর্তমানে স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে বিদেশী পর্যটকরো ভ্রমন করতে কষ্ট করতে হয়। ফলে তারা অন্যত্র চলে যায। এই নিয়ে জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের যৌথ সিদ্ধান্ত দরকার। অনেক বিদেশী পর্যটক এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদে ভ্রমনের ইচ্ছা থাকলেও বাধ্য হয়ে বিফল মনোভাব নিয়ে ফিরে যেতে হয়। বিদেশী পর্যটক ভ্রমন বাড়ানো গেলে বিদেশী মুদ্রার আয় যেমন বাড়বে সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।
পর্যটকদের জন্য উন্নত পরিবহনের ব্যবস্থা না থাকলে অনেকেই ভ্রমনে অনিহা প্রকাশ করে। ঢাকা-রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কে বেশীর ভাগ গাড়ী পুরানো মেরামত এবং এবং রং লাগিয়ে চালানো হচ্ছে। ফলে পথিমধ্যে যাত্রীদের ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। এসব সড়কে নতুন গাড়ী চালু করা অত্যন্ত জরুরী। পর্যটকদের জন্য আলাদা ক্লোজ ডোর গাড়ীর ব্যবস্থা করতে পারলে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলে অনায়াসে পর্যটক বাড়বে।
বর্তমানে পর্যটকদের জন্য যে আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে তা পর্যাপ্ত নয়। পর্যটন মৌসুমে হোটেল-মোটেলে সীট না পেয়ে পর্যটকরা গাড়িতেই রাত্রিযাপন করতে দেখা যায়। হোটেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, পর্যটকদের আগমন বেশী হলে খাবারের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়। এটা কোন অবস্থানেই কাম্য নয়।
আবাসন ব্যবসায় আগ্রহী করার জন্য ব্যাংকগুলো থেকে সহজশর্তে এবং স্বল্পসুদে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা নিলে আবাসন ব্যবসায় নতুন নতুন লোকের আগমন ঘটবে। আর হ্রদে এলাকায় ভাসমান অথবা হ্রদের কিনারায় আবাসনের উদ্যোগ নেয়া আরও জরুরী। তাহলে পর্যটক আরও বেশী আকৃস্ট হবে। রাতে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে হ্রদ এলাকায়। কারণ বর্তমানে হ্রদে ভাসমান আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। তবে নিরাপত্তার অভাবে হ্রদ এলাকায় রাত্রিযাপন কমই করে থাকে। হ্রদ এলাকায় বর্তমানে যেসব বোট রয়েছে ঐগুলোতে ভাড়া বেশী নেয়ার অভিযোগ রয়েছে এছাড়াও উন্নতমানের নয়। তাই উন্নতমানের নৌযান চালু করা দরকার তা হলে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের সংখ্যা বহুগুণে বেড়ে যাবে।