পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২৪ বছর পরও পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না-দীপংকর তালুকদার এমপি

144

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙ্গামাটিঃ-পার্বত্য অঞ্চলে যতদিন অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, অপহরণ, চাঁদাবাজি বন্ধ হবে না ততদিন পর্যন্ত পার্বত্য এলাকায় সেনাবাহিনীর উপস্থিত থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৪ বছর পরও পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তিনি পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলোকে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ও সংঘাতের রাজনীতি বন্ধ করে চুক্তি বাস্তবায়নে সহযোগীতা করার আহবান জানান।
বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) সকালে রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনিস্টিউটে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৪ বছর পুর্তি উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি এ কথা বলেন।
রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ইফতেকুর রহমান, পিএসসি, রাঙ্গামাটি ডিজিএফআই অধিনায়ক কর্নেল সলমন ইবনে এ রউফ, পিএসসি, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার মীর মোদদাছছের হোসেন, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য অংসুছাইন চৌধুরী, সদস্য সবির কুমার চাকমা, সদস্য মোঃ আব্দুর রহিম বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম।
দীপংকর তালুকদার বলেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তির মতো বিশ্বের অনেক জায়গায় চুক্তি হয়েছে। কোন কোন দেশে চুক্তির ৪০ শতাংশের বেশী বাস্তবায়িত হয়নি। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পার্বত্য শান্তি চুক্তির অনেক গুলো ধারা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অন্যান্য ধারা গুলো বাস্তবানাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নে সহযোগিতা না করে যদি বিরোধীতা করা হয় তাহলে চুক্তি বাস্তবায়ন চাওয়া কতোটুকু যুক্তিযুক্ত তা জনগনই বুঝবে।
দীপংকর তালুকদার বলেন, ১৯৯৭ সালে ২ ডিসেম্বর শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। জনসংহতি শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের ১ম বছর পুর্তি অনুষ্ঠান করে রাঙ্গামাটিতে জাকজমক ভাবে। কিন্তু অনুষ্ঠানে সরকারের কোন নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। চুক্তির এক বছরের মাথায় সরকারের সাথে বৈরীভাব তৈরী করেছে আঞ্চলিক সংগঠন জনসংহতি সমিতি। চুক্তি বাস্তবায়নে সহযোগিতা না করে পুরোপুরি বিরোধীতা করা শুরু করেছে তারা। তিনি বলেন, ২০০১ সালে নির্বাচনে তারা বিএনপিকে সমর্থন করেছে। নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে সমর্থন না করে জনসংহতি সমিতির অস্ত্রধারীরা পার্বত্য চুক্তির বিরোধী শক্তি বিএনপির সাথে আতাৎ করেছে। অস্ত্রধারীরা ৪০টি ভোট কেন্দ্রে কোন ভোট পড়তে দেয়নি। তারা পাহাড়ের প্রতিটি গ্রামের ভোটারদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়।
তিনি বলেন, চুক্তি বাস্তবায়ন হচ্ছে যেমন সত্য, তেমনি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি সেটাও সত্য। পাহাড়ের মানুষের মধ্যে চুক্তি নিয়ে যে আস্থা বিশ্বাস কাজ করছে তা দূর হতে হবে। চুক্তির ২৪ বছরে পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসীদের হাতে সব চেয়ে বেশী লোক মারা গেছে ক্ষমতাসীন দলের। তিনি বলেন, সরকার ও জেএসএসের মধ্যে সন্দেহ জমেছে সেটা পরিহার করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায়ের মাধ্যমে চুক্তি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। আমরা বার বার দাবি দিয়ে আসছি যে, পাহাড় থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। জেএসএস এক দিকে চুক্তির কথা বলছে অন্যদিকে দিনরাত মানুষ খুন করছে। তাই আসুন শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির বাকি ধারাগুলো বাস্তবায়ন করি।
এর আগে বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে শান্তি চুক্তির বর্ষ পুর্তির ২৪ বছর অনুষ্ঠানের সুচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে সম্পীতির নৃত্য পরিবেশন করেন।