নানিয়ারচরবাসী প্রহর গুনছে ব্রিজ উদ্বোধনের, আর স্বপ্ন বুনছে রাঙ্গামাটির তিন উপজেলার মানুষ

175

নানিয়ারচর প্রতিনিধিঃ-বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ছোয়া ছড়িয়ে পড়েছে দেশের দিক দিগন্তে যার ধারাবাহিকতায় পাহাড়ের দূর্গম উপজেলাগুলোর একটি নানিয়ারচর উপজেলা। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই হ্রদের শাখা নানিয়ারচরে উপজেলার চেঙ্গি নদীর উপর সদ্য নির্মিত সেতুটি দৃশ্যমান হওয়ায় পালটে গিয়েছে পুরো উপজেলার দৃশ্যপট। দীর্ঘতম এই সেতুর নির্মাণ কাজ সেনাবাহিনীর ২০ ইসিবি বাস্তবায়ন করেছে।
আর স্থানীয়রা দিনের পর দিন প্রহর গুনছে ব্রিজটি’র উদ্বোধনের, আর স্বপ্ন বুনছে রাঙ্গামাটি জেলার তিন উপজেলার মানুষ। নানিয়ারচর সেতু দিয়ে লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলাসহ সৌন্দ্যর্যর লীলাভুমি সাজেক যাওয়ার পথও হবে সহজ।
২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নানিয়ারচরের চেঙ্গি নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ঘোষণার দুই বছর পর ২০১৬ সালের ১ নভেম্বর সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে শুরু হয় সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে ২০২১ সাথে পুরোপুরি সম্পন্নের কাজ হয়েছে সমাপ্তি।
পার্বত্যাঞ্চলের সবচেয়ে দীর্ঘ এ সেতু নির্মাণ হওয়ায় তিন উপজেলার প্রায় চার লক্ষাধিক মানুষ সহজেই রাঙ্গামাটি জেলা সদরের সঙ্গে সড়কে যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছে। আর রাঙ্গামাটি হতে বাঘাইছড়িতে সড়ক পথে যেতে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। বাস সার্ভিস চালু না থাকায় সময় লাগে প্রচুর।
একইভাবে রাঙ্গামাটি হতে সড়ক পথে লংগদু প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। এই উপজেলার সাথেও বাস সার্ভিস চালু নেই। নৌ-পথই একমাত্র ভরসা দুই উপজেলার। তবে এই নানিয়ারচরের সেতুর মাধ্যমে সেই দুর্গম পরিস্থিতি অনেকটাই ঘুচতে যাচ্ছে। ঠিক এক সময় নানিয়ারচর উপজেলা সদরে যাওয়ার মতো সরাসরি কোনও সড়কও ছিল না। নৌ পথে যেতে তিন ঘণ্টা সময় লাগতো। এখন অটোরিক্সা যোগে সদর হতে সরাসরি রাঙ্গামাটি যেতে সময় লাগে মাত্র ১ঘন্টা।
রাঙ্গামাটি থেকে নানিয়ারচরের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। নানিয়ারচর থেকে লংগদু সদরে দূরত্ব ১৮ কিলোমিটার এবং বাঘাইছড়ির দূরত্ব ৩০ কিলোমিটারের মতো। চেঙ্গি সেতু ব্যবহার করে এখন এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে সরাসরি লংগদু বা বাঘাইছড়ি যাওয়া সম্ভব হবে। এই একটি সেতুতেই দুর্গম যাতায়াতের কষ্ট ঘুচছে তিন উপজেলায় বসবাসরত মানুষদের। তবে নানিয়ারচর থেকে লংগদু ১৮ কিলোমিটারের সড়কটি এখনও নির্মিত না হওয়ায় লংগদু ও বাঘাইছড়িবাসী সেতু উদ্বোধনের দিন থেকে এর সুবিধা পাচ্ছেন না।
সেতুটি যোগাযোগ ব্যবস্থায় যে হারে অবদান রাখছে ঠিক সেভাবেই হয়ে উঠেছে পর্যটন স্পষ্ট। পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হচ্ছে এই তিন পার্বত্য জেলার সর্ববৃহৎ সেতু নানিয়ারচর সেতু। উদ্বোধনের আগেই সেতুটি দেখতে তিন পার্বত্য জেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হতে ভ্রমণ পিপাসুরা ভিড় করছেন রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর সেতু দেখতে। দূর দুরান্ত থেকে সেতুটি দেখতে ব্যক্তিগত গাড়ি মোটরসাইকেল, ট্রলারসহ বিভন্ন যানবাহনে করে দর্শনার্থীরা যাচ্ছেন সেখানে। ছবি তুলে মনোরম দৃশ্য উপভোগ করছেন তারা।
সেতুটি দর্শনে আসা কিছু পর্যটক জানায়, দীর্ঘ এই সেতুটি মনোরম দৃশ্য আবৃত, প্রচন্ড রোদের তাপে দুপুরেও সেতু দর্শনে কাটাচ্ছেন আনন্দ মোহর সময়। এছাড়াও সেতুটির বাস্তবায়নের ফলে অর্থনৈতিক সফলতার মুখ দেখছে এই উপজেলাবাসী। আনারষে বিখ্যাত নানিয়ারচর উপজেলার আনারষ ব্যবসায়ীরা যোগাযোগের সুবিধার্থে পাবেন আরো লাভ জনক আয়।
সেতু নির্মাণকারী সংস্থা মনিকো লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার পাল জানিয়েছেন, প্রকল্পের কাজ শেষ। সহসাই সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। তবে উদ্বোধনের ব্যাপারে এখনো কিছু বলা যাচ্ছেনা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলি রহমান তিন্নি জানান, এই সেতুটি নানিয়ারচরের জনমানুষের দীর্ঘ দিনের একটি স্বপ্ন ছিল তা পূরণ হয়েছে। সেতুটি হওয়াতে যোগাযোগ, অর্থনীতির সুবিধাসহ কর্মসংস্থানের ও কৃষি পন্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ব্যাপক ভুমিকা রাখবে।
নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রগতি চাকমা জানান, ‘এই সেতুর মাধ্যমে আমাদের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এলাকার যোগাযোগ, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক উন্নয়ন স্বাধিত হয়েছে। এর পাশাপাশি নানিয়ারচর থেকে লংগদুর সড়কটি কাজ করা হলে, সহযেই আমরা এর সুফল ভোগ করব।