বান্দরবানে গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় মানবাধিকার কর্মী গ্রেফতার

19

বান্দরবান প্রতিনিধিঃ-বান্দরবানে গৃহকর্মী শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগে মানবাধিকার নেত্রী এড. সারাহ সুদিপা ইউনুছকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২৪ জুলাই) শহরের বনরূপা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
জানা গেছে, বান্দরবানে মানবাধিকার নেত্রী সারাহর বাসায় শিশু গৃহকর্মী জয়নব আক্তার জহুরা (৯)কে নির্যাতনের ঘটনার একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ২মিনিট ৮সেকেন্ডের এই ভিডিওটিতে সে নির্যাতন সইতে না পেরে বাসা থেকে পালিয়ে আসার বর্ণনা দেয় এবং তাকে জ্বলন্ত মশার কয়েল দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছ্যাঁকা দিয়ে পুড়ে দেয়ার নির্মম কাহিনী বর্ণনা করে। এই ঘটনায় প্রতিবেশী রওশানা আরা নামে এক নারী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলার প্রেক্ষিতে ভিকটিম শিশু জোহরা (৯) কে সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন বান্দরবান আমলী আদালতের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নাজমুল হোছাইন এর আদালত।
বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. সোহাগ রানা জানান, শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ঘটনায় রওশানা আরা নামে এক নারী বাদী হয়ে বান্দরবান সদর থানায় সারাহ সুদীপা ইউনুস (৪০) ও তার স্বামী ফয়সাল আহম্মেদ (৪৫) এর নামে শিশু আইন, ২০১৩ এর ৭০/৮০(১) এর ধারায় একটি মামলা দায়ের করে। দুইজন আসামির মধ্যে সারাহ সুদীপা ইউনুস (৪০) কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সুত্রে জানা যায়, শিশুটির মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা আর একটি বিয়ে করলে সে পুরোপুরি এতিম হয়ে যায় এবং পরে তার এক প্রতিবেশি তাকে বান্দরবান সদরের এক মানবাধিকার কর্মী সারাহ সুদীপা ইউনুসের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করার জন্য দিয়ে দেয়। ৮ মাস ধরে সে বাসায় কাজ করলে ও পরে সে গৃহকর্তার নির্যাতন সইতে না পেরে পালিয়ে যায়।
এদিকে বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) রওশন আরা নামে ওই প্রতিবেশি বান্দরবান সদর থানায় ভিকটিমের পক্ষ হয়ে একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ শিশুটি উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করে। জয়নাব আক্তার জোহরা নয় বছর বয়সী ওই শিশুটির বাড়ি বান্দরবানের লামা উপজেলায় লামার মুখ এর বরিশাল পাড়ায়।