সৌর শক্তির মাধ্যমে স্বপ্ন বুননের আশার আলো জাগাচ্ছে বোধিপুরবাসীর

69

সুমন্ত চাকমা, বোধিপুর থেকে ফিরেঃ-রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের পশ্চিমে বোধিপুর গ্রাম। ১৩৬ পরিবারের বসবাস এ গ্রামে। তারা অধিকাংশ ধান্য জমির নির্ভরশীল। কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পূর্বে ৭৫ হেক্টর জমি। পানির না থাকায় বোরো মৌসুমে কিছুটা চাষাবাদ হলেও অধিকাংশ জমি অনাবাদি পরে থাকত। আমন মৌসুম বৃষ্টি পানির উপর নির্ভর করে চাষাবাদ করা হত। সঠিক সময়ে বৃষ্টি পাওয়া নিয়ে প্রায় সময় দুঃচিন্তা লেগেই ছিল কৃষকদের। তার পাশাপাশি দেখা দিচ্ছে অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও জলবায়ু পরিবর্তনে খরার প্রভাব। ফলে এসব জমি চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পরে।
তবে এখন আর কৃষকদের দুরচিন্তা কিংবা চাষাবাদে অনিশ্চিয়তা নেই। সৌর শক্তিতে নতুন ভাবে স্বপ্ন বুননের আশা জোগান দিচ্ছে বোধিপুরবাসীর। সৌর পাম্প স্থাপনে মাধ্যমে তিন মৌসুমে চাষাবাদ করার স্বপ্ন বুনছে তারা।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ডেন মার্ক ভিত্তিক সহায়তা প্রতিষ্ঠিান ডেনিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিসের (ডানিডা) অর্থায়নে এসআইডি-সিএইচটি, ইউএনডিপির সহায়তায় পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ প্রকল্প রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পটি পার্বত্য অঞ্চলের জলবায়ু সহনশীল প্রকল্প (সিসিআরপি)। এ প্রকল্পের আওতায় রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়নে কৃষি সেচ ব্যবস্থায় সৌর প্যানেল ও পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে ৩৫০ ওয়ার্ড ক্ষমতাসম্পন্ন ১২টি সোলার, ৩ হর্স মোটর ও একটি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে।
সরজমিনে মঙ্গলবার ঘুরে দেখা যায়, সকালে সূর্য্য উঠার সাথে সাথে চার হাজার দুইশ ওয়ার্ড ক্ষমতাসম্পন্য ১২টি সোলার, ৩ হর্স মোটর দিয়ে জমিতে পানি দেওয়া হচ্ছে। আবার কেউ কেউ বীজ তলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। কেউ আবার নিজের জমিতে পানি নিতে কাচা ড্রেন তৈরী করতে ব্যস্ত।
বৌধিপুরের স্থানীয় কার্বারী চন্দ্রমুনি চাকমা বলেন, এই জমিগুলোর উপর নির্ভর করে আমাদের খাদ্যের নিশ্চয়তা। সোলার চালিত পাম্প স্থাপনে এখন তিন মৌসুম চাষাবাদ করা যাবে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শান্তি ময় চাকমা জানান, বৃষ্টির পানির উপর নির্ভর করে ৭৫ হেক্টর জমিতে কোন রকমে চাষাবাদ হয়। তবে বোরো মৌসুমে পানি সেচ ব্যবস্থা না তাকায় ২০/২৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করে কৃষকরা। সোলার ও সেচ পাম্প স্থাপনে পানি সেচ অনিশ্চয়তা দূর হয়েছে। তার পাশাপাশি বোরো মৌসুমে ৭৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা যাবে এবং ফলনও বাড়বে।
বোধিপুরের বিধবা চিজিবো চাকমা বলেন, স্বামী মারা গেছে ৬ বছর আগে। এর পর থেকে ৮০ শতাংশ জমিতে ফসলের উপর নির্ভর করে ছেলে মেয়েদের পড়া লেখার খরচ ও বার্ষিকীর খাদ্যের। প্রায় সময় তানাপুরায় ছিলাম, এখন ২/৩ মৌসুমে চাষাবাদ করতে পারবো। আর কোন চিন্তা নেই।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সিসিআরপির জেলা কর্মকর্তা পলাশ খীসা বলেন, কৃষি সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সেখানে গভীর নলকুপ, সোলার প্যানেল ও পাম্প স্থাপন করা হয়। এছাড়া একই প্রকল্পের আওয়াতায় ফুরোমান পাহাড়ে ৪টি গ্রামে জিএফএসের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যা ইতিমধ্যে সুবিধা পাচ্ছেন এলাকাবাসী।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মৃনাল কান্তি চাকমা বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কৃষি সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত ও ফুরোমোনর চারটি পাড়ায় গৃহস্থালি পানি সরবরাহে এলাকায় উপকার হয়েছে।
উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান দুর্গেশ্বর চাকমা বলেন, স্বল্প বরাদ্দে বিশাল দৃশ্য মান কাজ হয়েছে। যা না দেখে বিশ্বাস করা সম্ভব নয়। আমি নিজেই এই প্রকল্প এলাকা পরির্দশন করেছি। বিশাল জনগোষ্ঠীর এ প্রকল্পের সুবিধা এখন পাচ্ছে।