জুরাছড়ি প্রতিনিধিঃ-জুরাছড়ি উপজেলার দক্ষিণে ঘিলাতলী গ্রাম। গ্রামের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতি দিনের মতই টহলে বের হয় সেনাবাহিনী। গ্রামে বিচ্ছন্ন ভাগ্যগালা নামক এলাকায় ছোট্ট একটি ঘর। এ ঘরে পাশ দিয়ে হেটে যেতেই হাউ-মাই কান্নার শব্দ সেনা বাহিনীর সদস্যদের কানে বেজে উঠে। টহলে ক্যাপ্টিন শিমুল কান্তি দে ঘরে ঢুকেই দেখতে পান ৬০-৭০ বছরে এক বৃদ্ধ হাতের টিউমারে যন্ত্রনায় চটপট করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘিলাতলীর ভাগ্যগালায় এলাকায় ৬০-৭০ বছরের বৃদ্ধ পত্যরাম চাকমা স্ত্রীসহ বসবাস। তাদের নেই কোন সন্তান। জার জংগলের শাক-সবজি বিক্রি করে চলে তাদের জীবন।
পত্যরাম চাকমা স্ত্রী সুদিরে বালা চাকমা জানান, মার্চে প্রথম সপ্তাহে ডান হাতে কিছু ব্যথার অনুভুতি দেখা দেয়। পরে দিন দিন বড় হতে থাকে। এখন দিন রাত যন্ত্রনায় ছটফট করে। টাকার অভাবে চিকিৎসার উদ্যোগ নিতে পারছিনা।
আমার জুরাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য দীপক চাকমা জানান, সেনা বাহিনীর উদ্বুদ্ধকরনে পত্যারাম চাকমাকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ মো. কামরুজ্জামান জুয়েল জানান, রোগীর রক্ত শূন্যতা রয়েছে-দ্রুত উন্নত চিকিৎসা করা প্রয়োজন। টিউমারটি যথা সময়ে চিকিৎসা করা সম্ভব না হলে ক্যান্সারে আকার ধারন করতে পারে।
পত্যারাম চাকমার নিকট আত্মীয় জুয়েল চাকমা জানান, উন্নত চিকিসার জন্য আমরা কাপ্তাই চন্দ্রঘোনা জেনারেল হাসপাতাল প্রাইভেটে ভর্তি করেছি। ডাক্তার জানিয়েছেন দ্রুত অপারেশ করা প্রয়োজন। অপারেশ করতে এক-দেড় লক্ষ টাকা প্রয়োজন। ইতি মধ্যে জুরাছড়ির ঘিলাতলী স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন কর্তৃক পাটানো ৬০ হাজার টাকা বিভিন্ন পরিক্ষা ও ঔষধ কিনতে শেষের পথে। এখন কি করবো বুঝে উঠতে পারছিনা।
জুরাছড়ির ঘিলাতলী স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক সুপল চাকমা জানান, মানবিকতার দৃষ্টি থেকে পত্যেরাম চাকমার উন্নত চিকিৎসার জন্য সংগঠন উদ্যোগ নেয়। বিভিন্ন মানবতাবাদীদের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ করে আমার তার চিকিৎসার জন্য পাটিয়েছি। পত্যেরাম চাকমাকে বাচাঁতে সমাজের বৃত্তবানদের মানবিকতায় এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান তিনি।
যক্ষ্মা বাজারে ক্যাম্প অধিনায়ক ক্যাপ্টেন শিমুল কান্তি দে জানান, পত্যে রাম চাকমার সু-চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সেনা বাহিনী পাড়া বাসীকে উদ্বুদ্ধ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়।
জোন অধিনায়ক লে.কর্নেল মোঃ আক্তারুজামান ফয়সাল জানান, সেনাবাহিনী প্রান্তিক এলাকায় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
