বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের ৫০তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে বিভিন্ন সংগঠনের পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্যদিয়ে শ্রদ্ধা

200

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙ্গামাটিঃ- আজ ২০ এপ্রিল ছিলো বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ এর ৫০তম শাহাদাৎ বার্ষিকী। রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরের বুড়িঘাটের একটি দ্বীপে চির নিদ্রায় শায়িত আছেন বাঙালির অন্যতম এই শ্রেষ্ঠ সন্তান। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে ২০ এপ্রিল রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরের বুড়িঘাটে শক্রুবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে বীর দর্পে লড়াই করে শহিদ হয়েছিলেন তিনি। তাঁর বীরত্বের কারণে সেদিন ৮০ জন সহযোদ্ধার প্রান রক্ষা হয়েছিল আর পরাস্ত হয়েছিল পাকিস্তানি বাহিনী। এই যুদ্ধে শক্রুবাহিনীর বেশ কয়েকজন হতাহত এবং তাদের বহনকারী বোট বিধ্বস্ত হয়েছিল। আর পিঁছু হঁটতে বাধ্য হয়েছিল শক্রুবাহিনী। দেশ স্বাধীন হওয়ার বাংলাদেশ সরকার স্বাধীনতা সংগ্রামে বীরোত্বপূর্ণ ভুমিকার জন্য মুন্সী আব্দুর রউফকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভুষিত করেন।
এদিকে, ২০ এপ্রিল বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ এর ৫০তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ছোট পরিসরে তার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অপর্ণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তারা। সকালে রাঙ্গামাটি আমানতবাগ এলাকায় স্থাপিত বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অপর্ণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান, স্বাধীনতা যুদ্ধে স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটি, বীর শ্রেষ্ট মুন্সি আব্দুল রউফ মুক্ত রোভার স্কাউট গ্রুপ। এসময় স্বাধীনতা যুদ্ধে স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটি পক্ষে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন আহবায়ক নুরুল আবছারসহ অন্যান্য কমিটির সদস্যরা। অন্যদিকে, বীর শ্রেষ্ট মুন্সি আব্দুল রউফ মুক্ত রোভার স্কাউট গ্রুপের রোভার স্কাউট সোয়েব আহমেদ ও তার রোভার স্কাউট দল। এছাড়াও অন্যান্য সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ এর ৫০তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন করা হয়।
জানা যায়, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ২০ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন তিনি। ২৬ মার্চ যুদ্ধ শুরু হলে সহকর্মীদের সঙ্গে তিনিও ছুটে আসেন পার্বত্য চট্টগ্রামে। রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট আক্রান্ত হলে শক্রুবাহিনীর তিনটি নৌযান একাই ধ্বংস করেন তিনি।
তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রামে রাঙ্গামাটি-মহালছড়ি পানিপথ প্রতিরোধ করার জন্য ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের এক কোম্পানি সৈন্যের সাথে বুড়িঘাটে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। হঠাৎ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কমান্ডো ব্যাটেলিয়নের দুই কোম্পানি সৈন্য, বেশ কয়েকটি স্পীড বোট এবং দুটি লঞ্চে করে বুড়িঘাট দখলের জন্য আক্রমন করে। মর্টার আর ভারী অস্ত্র দিয়ে চালানো আক্রমণে প্রতিহতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন মুন্সি আব্দুর রউফ। হঠাৎ একটি গোলার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় তার দেহ।
নানিয়ারচরের বুড়িঘাটে বসবাসকারী স্থানীয় দয়াল কৃষ্ণ চাকমা তার মরদেহ উদ্ধার করে তাকে কাপ্তাই হ্রদের অথৈ নীল পানির ছোট্ট এই দ্বীপে সমাহিত করেন। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর)-এর উদ্যোগে সেই দ্বীপে নির্মিত হয় বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের সমাধি সৌধ। আর বীর শ্রেষ্ঠের শাহাদাৎ বার্ষিকীতে বীর শ্রেষ্ঠের স্মৃতি সৌধটি উন্নয়ন করে দেশ বিদেশের পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার আহবান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, ২০১৮ সাল থেকে এই দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও আড়ম্বরপূর্ণভাবে আয়োজন করে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ফাউন্ডেশন। বিগত বছরও সব আয়োজন ছিল কিন্তু করোনা সংক্রমনের কারনে সকল আয়োজন স্থগিত করা হয়। এ বছরও করোনা সংক্রমনের কারণে আনুষ্ঠানিকতা স্থগিত করা হয়েছে।
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তা ও পরিচালক ইয়াছিন রানা সোহেল জানান, দিনটি পালনের জন্য এ বছর সীমিত পরিসরে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু করোনা সংক্রমনের কারণে তা স্থগিত করা হল।
তিনি আরো বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের শাহাদাত বার্ষিকী, জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন এবং শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতেই বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
উল্লেখ্য, ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার সালামতপুর গ্রামে ১৯৪৩ সালের ১মে জন্মগ্রহণ করেন বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ। বাবা মেহেদী হোসেন স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি করতেন। তিন ভাই বোনের মধ্যে আব্দুর রউফ ছিলেন সবার বড়। উপজেলার কুমারখালী হাই স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়াবস্থায় তৎকালিন ইপিআর বর্তমানে বিজিবিতে যোগ দেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন।