পাহাড়ে আখের বাম্পার ফলনঃ আখ বেঁচে লাখপতি

362

কাজী মোশাররফ হোসেন, কাপ্তাইঃ-রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন উপজেলার সমতল এলাকায় এবছর আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার কাপ্তাই, রাজস্থলী, বিলাইছড়ি, কাউখালী, নানিয়ারচরসহ বিভিন্ন উপজেলা সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে বিস্তীর্ণ এলাকায় আখ চাষ করেছেন বিপুল সংখ্যক চাষী। আখ বেচে অনেকেই লাখপতি হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
কাপ্তাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শামশুল আলম চৌধুরী জানান, উপজেলার ওয়াগ্গা, রাইখালী এবং চিৎমরম ইউনিয়নে আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার অন্যান্য উপজেলায়ও আখের ফলন ভালো হয়েছে। অতি বৃষ্টি এবং খরার তেমন প্রভাব না থাকায় এবার আখের ফলন আশানুরুপ হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ওয়াগ্গা ইউনিয়নের প্রাক্তন মেম্বার এবং সফল চাষী আপাই মারমা বলেন, এই এলাকায় প্রতি বছর আখের চাষ ভালো হয়। এবারও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। এই ইউনিয়নে শতাধিক আখ চাষী রয়েছেন। অত্র এলাকার আখ আকারে লম্বা, হৃষ্টপুষ্ট, মিষ্টি এবং নরম হওয়ায় এখানকার আখ সবারই পছন্দ। বেপারীরা অনেক আগেই আখ কেনার জন্য চাষীদের আগাম টাকা দিয়ে যান। মূলত এখানকার বেশিরভাগ আখ চট্টগ্রাম ও ঢাকায় চলে যায়। প্রতিটি আখ বাগানে ১০ টাকা দরে বেপারীরা কিনে নেন। এই আখ শহরে ৭০ থেকে৮০ টাকায় বিক্রি হয়। আখ কেনার জন্য বেপারীরা ট্রাক নিয়ে আসেন। বাগান থেকে আখ কেটে সরাসরি ট্রাকে তোলা হয়। স্থানীয় বাজারেও আখ বিকিনিকি হয়। বরইছড়ি বাজার, ঘাগড়া বাজার, কাপ্তাই নতুন বাজার, দোভাষী বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে আখ বিক্রি হয় বলে জানা গেছে।
আখ ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম জানান, তিনি স্থানীয় দোভাষী বাজারে আখ বিক্রি করেন। প্রতিদিন প্রায় ৩শ আখ বিক্রি হয়। আখ বিক্রি করে ভালোই মুনাফ করছেন বলেও তিনি জানান। দোভাষী বাজারে বিগত কয়েক বছর ধরে তিনি আখ বিক্রি করছেন বলে এই প্রতিনিধিকে জানান।
শওকত আলী নামক এক ব্যবসায়ী জানান, তিনি কাপ্তাই থেকে আখ কেনার জন্য চট্টগ্রাম শহর থেকে ট্রাক নিয়ে এসেছেন। প্রতি বছর তিনি কাপ্তাই থেকে আখ নিয়ে চট্টগ্রামে বিক্রি করেন বলেও জানান। সিজনে আখ বেচে তাঁর লাখ টাকা আয় হয় বলে শওকত আলী জানান। কাপ্তাই উপজেলার প্রাক্তন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মংসুই প্রু মারমা বলেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বেশ কিছু জমি আছে যেখানে বছরের পর বছর আখ চাষ হয়। আখের ফলন ভালো হওয়ায় এবং চাষীরা বছরের পর বছর আখ চাষ করে থাকেন। আখ চাষী রতন তনচংগ্যা বলেন, উপজেলা কৃষি বিভাগ সব সময় আমাদের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে আসছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ পাওয়ায় চাষ পদ্ধতি ভালো হবার পাশাপাশি উৎপাদন খরচও কম হয়। এবং বাজার মূল্যও ভালো পাওয়া যায়।