গ্রাম ও শহরের সংবাদিকদের আইনী সুরক্ষা ও অধিকার আদায়ের এক পতাকাতলে সমবেত হতে হবে

344

আলহাজ্ব এ,কে,এম মকছুদ আহমেদঃ-বর্তমান সময়ের সংবাদপত্র শিল্পে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে তা নিরসনে গ্রাম ও শহরের সাংবাদিকদের আইনী সুরক্ষা ও অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সকলকে এক পতাকাতলে সমবেত হতে হবে। নতুবা টিকে থাকা মুশকিল হয়ে পড়বে। বর্তমানে গ্রাম বা শহরে যে হারে সাংবাদিক বেড়েছে এবং ভূঁই ফোঁর সাংবাদিক সংগঠন সৃষ্টি হয়েছে এতে করে সমাজে টিকে থাকা অত্যন্ত কষ্ট কর হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে যা সমাজে টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। এ জন্যই সকল সংগঠনগুলো ভেঙ্গে দিয়ে এক পতাকা তলে সমবেত হতে হবে। সত্যিকার সাংবাদিকদের আলাদা করে ফেলতে হবে। একটি সংগঠনের ছাদের নীচে মিলিত হয়ে সংগঠনকে মজবুত করতে হবে। নতুবা আইনী সুশাসন এবং টিকে থাকার অধিকার আদায় করা সম্ভব নয়। প্রথমে গ্রামের সাংবাদিকদের এক জোট করার জন্য শহরের সাংবাদিকদের ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। শহরে যদি এক জোট না হয় তাহলে গ্রামকে ঠিক করা যাবে না। বর্তমানে গ্রাম ও শহরের সাংবাদিকদের যে বৈষম্য বিরাজ করছে সেটা দুর করতে না পারলে কোন উন্নতি সম্ভব নয়। আমি গ্রাম থেকে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে গায়ের গায়ে পায়ে হেঁটে বিচরণ করে যে খবরটি অনেক কষ্ট করে সংবাদ পাঠালাম। আপনি ঢাকায় ১০/২০ তলা ভবনে এসিতে বসে আমার পাঠানো নিউজটাকে ফেলে দেন অথবা সারা দেশের খবরের সাথে একটি শব্দ দিয়ে শেষ করে দেন। আমার কষ্টাজিত বিজ্ঞাপনের টাকায় আপনি মহা সাংবাদিক বনে যান। অথচ আপনি হাজার হাজার টাকা বেতন নিয়ে রাজার হালে দিন যাপন করেন। আর আমি এক বেলা অন্ন যোগাতে ও কষ্ট হয়। অথ্যাৎ বেতন বোর্ড রোয়েদাদে ঢাকা আর মফস্বলে যে বেতন বৈষম্যতা আছে সেটাকে দুর করতে হবে। শহর আর গ্রামের মধ্যে যে বিরাট বৈষম্যতা রয়েছে সেটা দুর করতে উভয়কে এক জোটে হয়ে কাজ করতে হবে। আপনি তো শহরে জন্ম গ্রহণ করেননি। আপনি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করে মানুষ হয়ে শহরে গিয়ে বড় হয়ে গেছেন। আমি গ্রামে থেকে ছোট হয়ে রয়ে গেলাম। হাতে গোনা কয়েকজন শহরে জন্মগ্রহণ করেছেন।
সকলে সম্মিলিত ভাবে আইনী সুরক্ষার জন্য কাজ করতে হবে এবং আইনে প্রনয়নকারীদেরও মনোভাব পরিবর্তনের জন্য সম্মিলিত ভাবে এগিয়ে আসতে হবে। আইনী সুরক্ষা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অধিকার আদায় করা সম্ভব নয়। কাজেই গ্রাম ও শহরের তারতম্য ভুলে গিয়ে আইনী সুরক্ষা আসতে হবে। বেতন বোর্ডের বৈষম্য দুর করতে হবে। সাথে সাথে বিজ্ঞাপন নীতিমালা পরিবর্তনে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। শহরের পত্রিকায় অর্থাৎ জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়ার রেওয়াজ আছে কিন্তু গ্রামের দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়ার রেওয়াজ নেই। হয়তো বা অনেকেই বলবেন এটা কেমন কথা গ্রামের পত্রিকা না খেয়ে বেছে আছে। আর শহরের পত্রিকায় তেলা মাতায় তেল দিয়ে যাচ্ছে। এটা যদি দুর করা না যায় বৈষম্য থেকে যাবে।
এরশাদ সাহেবের আমলে ৮০%, ২০% ভাগ ছিলো। জিয়ার আমলে ৬০%, ৪০%,-৪০%, ৬০% আর খালেদার আমলে শেষ দিকে এ থেকে এখন চলছে গ্রামের পত্রিকা বিজ্ঞাপন বন্ধ। ২০০৫ সাল থেকে চলে আসছে। গ্রামের পত্রিকা কি খেয়ে বেঁচে আছে। চিন্তা করে কি কেউ দেখেছেন। বেতন, বিজ্ঞাপন বৈষম্য দুর করা না গেলে গ্রাম শহর কোন সাংবাদিকদের নিরাপত্তা অথবা অধিকার আদায় কোনটাই হবে না। আগে শহরের সাংবাদিকদের মন মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে, তার পরে সমস্যা সমাধানের এগিয়ে আসতে হবে।
এ ছাড়াও সংবাদপত্র মালিকদের ও সংগঠন রয়েছে। পূর্বে বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদ, এডিটর কাউন্সিল, গ্রামীন সংবাদপত্র পরিষদ ছিল। বর্তমানে নোয়াব একছত্র দখরদার হিসাবে আছে। তারাই সংবাপত্রের ভাগ্য বিধাতা। সংবাদপত্র পরিষদ, সম্পাদক পরিষদসহ আরও কিছু সংগঠন রয়েছে। যেখানে মতদ্বৈততা রয়েছে। কাজেই সংবাদপত্র মালিকদের একটি সংগঠনের পতাকাতলে আসতে হবে। সম্পাদক পরিষদ একটাই করতে হবে। এখানে ও গ্রাম শহর বিভাজন। বড় ছোটর বেড়াজাল। এগুলো বন্ধ করতে না পারলে সংবাদপত্র শিল্প টিকিয়ে রাখা অনেক কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়বে।
এছাড়া নিউজ প্রিন্ট কালি, প্লেইট, বিদ্যুৎ বিল, ইন্টারনেট, ইনকাম ট্যাস্ক, বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। সে দিকে নজর দিতে হবে। নতুবা যেই তিমিরে সেই তিমিরে থেকে যাবে।
অতএব, সংশ্লিষ্ট সকলকে মনোভাব পবিরর্তন করে এগিয়ে আসতে হবে। (লেখক-দৈনিক গিরিদর্পণ প্রকাশক ও সম্পাদক)