কাপ্তাইয়ে বিভিন্ন ঔষধের দোকান থেকে মাস্ক উধাও, ৫ টাকার মাক্স ৫০ টাকায় বিক্রি

305

কাজী মোশাররফ হোসেন, কাপ্তাইঃ-কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন ঔষধের দোকানে হঠাৎ করে মাস্ক উধাও হয়ে গেছে। উপজেলার প্রতিটি ঔষধের দোকানে তন্ন তন্ন করে তল্লাশী করেও মাস্ক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজার, লিচুবাগান, কাপ্তাই নতুন বাজার, বরইছড়িসহ বিভিন্ন বাজারে অবস্থিত ঔষধের দোকানে খোঁজ করে একটাও মাস্ক পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
কাপ্তাই উপজেলার বাসিন্দা মোঃ ফজলুর রহমান ও শাহনেওয়াজ জানান, তারা দুটি মাস্ক কেনার জন্য দোভাষী বাজার ও লিচুবাগানের প্রায় ২০টি দোকানে গিয়েছেন। কিন্তু প্রত্যেক দোকানী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তাদের কাছে কোন মাস্ক নেই। তবে দোভাষী বাজারের একটি দোকানে অত্যন্ত নিম্ন মানের ২টি মাস্ক পাওয়া গেছে। স্বাভাবিক সময়ে এরকম মাস্ক ফ্রি দেওয়া হতো। অথবা ২টি মাস্ক সর্বোচ্চ ৫ টাকায় কিনতে পাওয়া যেত। কিন্তু এরকম ২টি মাস্ক ১০০ টাকা দিয়ে তাঁরা কিনেছেন বলে অভিযোগ করেন।
বাজার থেকে হঠাৎ কেন মাস্ক উধাও হয়ে গেল জানতে চাইলে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ঔষধের দোকানের কর্মচারি জানান, সত্যিকার অর্থে প্রায় প্রতিটি দোকানে মাস্ক রয়েছে। কিন্তু দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ার খবর জানাজানি হবার পর ব্যবসায়ীরা অসৎ উদ্দেশ্যে মাস্ক গুদামজাত করে রেখেছে। দেশে করোনার প্রভাব আরো বাড়লে মাস্কের খুব বেশি প্রয়োজন হবে। তখন একটি মাক্স ২ থেকে ৩শ টাকায় বিক্রি করা যাবে বলে অনেকে এখন মাক্স বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন।
কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মাসুদ আহমেদ চৌধুরী জানান, কিছু অসচেতন মানুষ অকারণে মাক্স কেনার জন্য বাজারে বাজারে ঔষধের দোকানে ঘোরাঘুরি করছেন। মাক্সের প্রয়োজন না হলেও কিনে নিজ হেফাজতে রাখার জন্যই কেউ কেউ সচেষ্ট আছেন। মূলত অসৎ ঔষধ ব্যবসায়ীরা এই সুযোগটিকেই কাজে লাগাচ্ছেন। কম দামের মাক্স বেশি দামে বিক্রি করে বাড়তি মুনাফা করাটাই তাদের উদ্দেশ্য। তবে এই অসৎ উদ্দেশ্য থেকে সরে আসার জন্য তিনি সকল ঔষধ ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানান। আর অকারণে মা´ ব্যবহার না করার এবং মাক্স কিনে ঘরে জমা না রাখার জন্যও তিনি সকলের প্রতি অনুরোধ জানান। পাশাপাশি যারা ইচ্ছাকৃতভাবে মাক্সসহ প্রয়োজনীয় ঔষধ সামগ্রী গুদামজাত করে রাখবে অথবা দোকানে থাকলেও বেশি দাম পাবার আশা বিক্রি বন্ধ রাখবে, অথবা প্রকৃত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করবে প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।