রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে যাত্রী হয়রানী বন্ধ ও উন্নত গাড়ী চলাচলের দাবীতে এক জোট রাঙ্গামাটির সর্বস্তরের জনগন

1130

রাঙ্গামাটিঃ-রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে যাত্রী হয়রানী বন্ধ ও উন্নত গাড়ী চলাচলের দাবীতে এক জোট হয়েছে রাঙ্গামাটির সর্বস্তরের জনগন। সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারী) চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মোটর মালিক সমিতির কার্যালয়ে সমিতির দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে দাবী জানান রাঙ্গামাটির সাধারণ জনসাধারণ। রাঙ্গামাটির সাধারণ জনগন সমিতির নেতৃবৃন্দকে বিভিন্ন ভাবে দাবী ও প্রশ্ন করলে ও তারা কোন উত্তর দিতে পারেনি।
চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মোটর মালিক সমিতির সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ আব্দুর রহমান গতকাল রাঙ্গামাটি জেলা কার্যালয়ে আসলে উপস্থিত রাঙ্গামাটির সাধারণ জনগনের তোপের মুখে পড়ে। রাঙ্গামাটির সাধারণ জনগনের তোপের মুখে পড়ে সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমি চাই রাঙ্গামাটিতে ভালো গাড়ী আসুক আমরাও সহযোগিতা করবো।
পরে সাংবাদিকরা এসে রাঙ্গামাটিতে যে কোন রুটে গাড়ী চলাচল করতে তাদের কোন বাধা আছে কিনা জানতে চাইলে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে গাড়ী নামাকনা কেন আমাদের সাথে আলোচনা করতে হবে। আমাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে গাড়ী চালানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
প্রতিটি নতুন গাড়ী নামাতে সমিতিকে ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা দেয়ার প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা কোন টাকা নেই না। সমিতির সদস্য হিসাবে শেয়ার ক্রয় করে আমাদের কাছ থেকে ৪ লক্ষ টাকা দিয়ে। বিভিন্ন কোম্পানীর রিকন্ডিশান যে গাড়ী গুলো আছে তার রুট পারমিট আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, রুট পারমিট নাই কিছু দিনের মধ্যে এ গুলোর রুট পারমিট হয়ে যাবে। তাদের বৈধ কাগজপত্র আছে কিনা তা জানতে চাইলে তারা কোন কাগজ পত্র দেখাতে পারেনি।
এই অবস্থায় পরবর্তীতে রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর, নিউ রাঙ্গামাটি রিজার্ভ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী মোঃ বানু মিয়া সহ সকলের উপস্থিতিতে রাঙ্গামাটি যাত্রী সেবা নিশ্চিত করার জন্য দাবী জানান। যাত্রী সেবা যতদিন নিশ্চিত করা হবে না ততদিন পর্যন্ত রাঙ্গামাটি থেকে কোন প্রকার টাকা পয়সা চট্টগ্রাম সমিতির কাছে যাবে না বলে দাবী তোলেন নেতৃবৃন্দ। এ সময় রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর বলেন, আগামীকাল থেকে রাঙ্গামাটির প্রতিটি গাড়ীর জন্য যে চাঁদা সমিতি গ্রহণ করে তা এখানেই থাকবে, চট্টগ্রাম সমিতিতে যাবে না। নতুন ব্যাংক একাউন্ট করে এই টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হবে। যতদিন পর্যন্ত যাত্রী সেবার মান উন্নত হবে না ততদিন পর্যন্ত একটি টাকাও তাদের দেয়া হবে না।
চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মোটর মালিক সমিতি প্রতি দিন প্রতিটি গাড়ী থেকে ১০০ টাকা এবং ঢাকার গাড়ী থেকে ৫১০ টাকা করে মোট প্রায় ১১ হাজার টাকা করে মাসে ৩ লক্ষ টাকার অধিক রাঙ্গামাটি জেলা বাসীর টাকা চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মোটর মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দরা ভোগ করছে। যে টাকার এছাড়া প্রতি মাসে দোকান ভাড়া বাবদ ৩৭ হাজার টাকা এবং সালামীর টাকাও এই সমিতি গ্রহণ করছে। এই টাকা থেকে রাঙ্গামাটি জেলাবাসী কোন সুযোগ সুবিধাও গ্রহণ করতে পারছে না বলেও দাবী উঠে।