রাঙ্গামাটির রাইখালীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে বাচিং মং মারমা নামে যুবক নিহত

299

নিজস্ব প্রতিবেদক,রাঙ্গামাটি –রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া বাজারে ব্যাবসায়ী ও মোটরসাইকেল চালক বাসিমং মারমা (৩২)কে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। বুধবার (৮ জানুয়ারী) দুপুরে রাইখালী ও বাঙ্গালহালিয়ার সীমান্তবতী গবাছড়া এলাকায় এই হত্যাকান্ড ঘটে। ঘটনার পর পরই এলাকাবাসী বাঙ্গালহালিয়া আমি ক্যাম্পে অবগত করলে ক্যাম্পের সেনাবাহিনীরা ঘটনা স্থলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসিংমং মারমার লাশ উদ্ধার কর। এদিকে ঘটনা সত্যতা স্বীকার করেছেন চন্দ্রঘোনা থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফ উদ্দিন।
বাঙ্গালহালিয়া বাজার থেকে গবছড়া পাড়া কারবারি সুইএচিং মারমাকে নিয়ে নিহত বাসিমং মারমার মোটর সাইকেলে করে এক অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় যোগ দিতে যাচ্ছিল। রাইখালী ও বাঙ্গালহালিয়া সীমানা নাইক্যছড়া দেবতা ছড়া এলাকায় পৌছালে কার্বারিকে লক্ষ করে সন্ত্রাসীরা গুলি ছুঁড়তে থাকে। গুলি মোটরসাইকেল চালক বাসিমং মারমার গায়ে লাগলেও ভাগ্যক্রমে কারবারি সুইএচিং মারমা বেঁচে যায়। মোটরসাইকেল চালক বাসিংমং মারমা গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হন। নিহত ব্যক্তি গবছড়া পাড়ার ক্যাসিংপ্রু মারমা ছেলে।
এই হামলা বেঁচে যাওয়া গবছড়া পাড়া কার্বারি সুইএচিং মারমা বলেন, পাড়ার প্রধান হিসেবে পাড়া বাসির অনুরোধে পাড়ার নব নির্মিত বৌদ্ধ বিহার উদ্বোধন উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় যোগ দিতে বেলা দেড়টায় দিকে বাঙ্গালহালিয়া বাজার থেকে তার নিহত চাচাত ভাইকে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে যাওয়ার পথে জে,এস,এস এর অস্ত্রধারী ৮-১০ জন সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে পাহাড়ের উপর থেকে গুলি ছুঁড়লে প্রথমেই ২-৩টি গুলি চালকের গায়ে লেগে গাড়িটিসহ আমরা মাটিতে পড়ে যায়। এসময় আমাকে লক্ষ্য করে আবারো ২০-৩০টি গুলি ছুঁড়েছে সন্ত্রাসীরা। আমি সন্ত্রাসীদের দেখে জীবন বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করে পাহাড়ের এক পাশে লুকিয়ে সেনাবাহিনীকে মোবাইল করলে সেনাবাহিনী ঘটনা স্থলে দ্রুত গিয়ে আমাকে উদ্ধার করেন।
কার্বারি আরো বলেন, জে,এস,এস, এর লোকজন ইতি পূর্বে আমাকে প্রানে মেরে ফেলতে হুমকি দিয়ে আসছে। তাই প্রাণের ভয়ে গত জুন মাস থেকে বাঙ্গিলহালিয়া বাজার এলাকায় এসে ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছি।
ঘটনার পর পরই এলাকাবাসী বাঙ্গালহালিয়া আমি ক্যাম্পে অবগত করলে ক্যাম্পের সেনাবাহিনীরা ঘটনা স্থলে দ্রুত ছুটে গিয়ে অক্ষত অবস্থায় গবছড়া পাড়া কার্বারী সুইএচিং মারমাকে ও বাসিংমং মারমা লাশ উদ্ধার করে চন্দ্রঘোনা থানায় মৃত লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে বলে ক্যাম্প কমান্ডার জানান।
এদিকে ঘটনা সত্যতা স্বীকার করেছেন চন্দ্রঘোনা থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফ উদ্দিন। নিহত বাসিংমং মারমা বাঙ্গালহালিয়া বাজার স্কুল মার্কেটে চায়ের দোকানদার ও মোটরসাইকেল চালক। দোকানটি তার স্ত্রী চালান এবং সংসারের অভাব অনটনে সে মোটরসাইকেল ভাড়ায় চালিয়ে সংসারে সহযোগিতা করেন।