রাঙ্গামাটিতে এক বছরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিবিনিময়ে ১ সেনা সদস্যসহ ৩৭ জন নিহত, ৪৪ সন্ত্রাসী আটক, আহত-১৯, ২১ জন অপহরণ,অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

477

মিল্টন বাহাদুরঃ-পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২২ বছরের পাহাড়ে শান্তি ফিরে আসেনি। প্রতিনিয়ত রক্তক্ষয়ী সংর্ঘের কারণে পাহাড়ে মানুষের মাঝে চরম আতকং বিরাজ করছে। পার্বত্য চুক্তির দীর্ঘ ২২ বছরে পাহাড়ে একটি পর একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজী খুন, গুম ও বন্দুকযুদ্ধেও ঘটনা। সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছে সেনা সদস্য নিহত হয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকবার সেনাটহলের উপর সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে বেশ কয়েকবার। বন্দুক যুদ্ধের ঘটনায় পাহাড়ে দীর্ঘ ২২ বছরে প্রাণ হারিয়েছে ১ হাজারের বেশী। শুধুমাত্র ২০১৮ সালের তিন পার্বত্য জেলায় নিহত হয়েছে প্রায় ৬৮ জন। ২০১৯ সালে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাঙ্গামাটি জেলা নিহত হয়েছে ৩৭ জন। অপহৃত হয়েছে ২১ জন আহত হয়েছে ১৯ জন ও চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী আটক করা হয়েছে ৪৪ জনকে।
সম্প্রতি গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রতিবেদনে জানা যায় চার আঞ্চলিক দলের চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ২০১৮ সালে ৬৮ জন এবং ২০১৫ সালে ৬৯ জন খুন হন। ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত খুন হয়েছেন ৫৬ জন। এছাড়া ২০১৪ সালে ৫৪ জন, ২০১৬ সালে ৪১ জন এবং ২০১৭ সালে ৩৩ জন খুন হয়েছেন। আহত হয়েছে ১২০৮ জন, অপহরণ হয়েছে ১৮৪৪ জন।
২২ বছরে পাহাড়ের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল গুলোর সাথে সেনাবাহিনীর দফায় দফায় গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল গুলোর প্রশিক্ষণ ক্যাম্প সহ আস্তানা ধ্বংস কওে বিপুল পরিমান অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে উদ্ধার হয়েছে রকেট লাঞ্চার, গ্রেনেড, একে-৪৭ সহ অত্যাধুনিক অস্ত্র।
এদিকে শুধুমাত্র রাঙ্গামাটি জেলায় জানুয়ারী হতে ১লা ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্য অনুসন্ধ্যানে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারী মাসের ৫ জানুয়ারী বাঘাইছড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে জনসংহতি সমিতির এমএন লারমা গ্রুপের ১জন নিহত হয়। ৯ জানুয়ারী কাপ্তাইয়ের গবাছড়িতে সেনা অভিযানে অস্ত্র ও গুলিসহ আরাকান লিবারেশন পার্টির ২ সদস্য আটক। ১৭ জানুয়ারী সাজেকে ৪৮ ঘন্টার অবরোধে মোটরসাইকেল আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ২২ জানুয়ারী রাঙ্গামাটির আসামবস্তি এলাকা থেকে জেএসএসের চাঁদা কালেক্টর অস্ত্রসহ আটক। ২৯ জানুয়ারী লংগদুতে দুর্বৃত্তদের ব্রাশ ফায়ারে ইউপিডিএফ কালেক্টর নিহত।
২ ফেব্রুয়ারী রাঙ্গামাটি নানিয়ার উপজেলার চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমার হত্যা মামলার অন্যতম আসামী ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের সমর্থিত পিসিপি রাঙ্গামটি জেলা সভাপতি কুনেন্টু চাকমাকে গুলি, বিদেশী পিস্তল ও নগদ ৪ লক্ষ টাকাসহ আটক করেছে যৌথ বাহিনী। ৪ ফেব্রুয়ারী রাঙ্গামাটি কাপ্তাইয়ের রাইখালীর কারিগর পাড়ায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে ২জন নিহত। ৮ ফেব্রুয়ারী রাঙ্গামাটিতে জেএসএস ও ইউপিডিএফ’র সশস্ত্র দলের ৩ সক্রিয় সদস্য আটক। ৯ ফেব্রুয়ারী কাপ্তাইয়ে জোড়া খুনের ঘটনায় ৮ ব্যক্তি গ্রেফতার। ১১ ফেব্রুয়ারী বিলাইছড়ি ও জুরাছড়ি সীমান্তবর্তী দূর্গম দুমদুম্যার নির্বাণ গুহা বিমুক্ত বৌদ্ধ বিহার থেকে ধর্মজিৎ ভান্তেসহ অপর ৩জনকে অপহরণ করেছে দুর্বৃত্তরা। ২৪ ফেব্রুয়ারী ঢাকা থেকে নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা ও বর্মাসহ ৬ খুনের আসামী ইউপিডিএফ সমরিক শাখার প্রধান আনন্দ প্রকাশ চাকমাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১।
২ মার্চ রাঙ্গামাটির লংগদুতে স্পীড বোটে দূর্বৃত্তদের হামলায় ২জন আহত। ৩ মার্চ রাজস্থলী উপজেলার ফারুয়া ষ্টেশনে দুর্বৃত্তদের গুলি, অল্পের জন্য রক্ষা। ৭ মার্চ বাঘাইছড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ইউপিডিএফের প্রধান সমন্বয়ক নিহত। বাঘাইছড়িতে দূর্গম সাজেকে সন্ত্রাসীদের সাথে সেনাবাহিনীর গুলি বিনিময়, অত্যাধুনিক অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ সাময়িক সরঞ্জামাদি উদ্ধার। ১৮ মার্চ বাঘাইছড়িতে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত গাড়ী বহরে সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে ৬জন নিহত, ১১জনকে চট্টগ্রামে প্রেরণ। ১৯ মার্চ বিলাইছড়িতে আওয়ামীলীগ উপজেলা সভাপতি সুরেশ কান্তি তংচঙ্গ্যাকে গুলি করে হত্যা। ২৩ মার্চ কাউখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতিকে হত্যার হুমকি। ২৮ মার্চ বাঘাইছড়িতে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত দুই সন্দেহভাজন আটক। ৩০ মার্চ রাঙ্গামাটির লংগদুতে শিশুর কলাকাটা লাশ উদ্ধার।
৭ এপ্রিল লংগদুর কাট্টলী এলাকায় সন্ত্রাসীদের সাথে যৌথ বাহিনীর গুলি বিনিময়, অস্ত্রসহ আটক-৫। ১০ এপ্রিল বাঘাইছড়ির বাঘাইহাটে ইউপিডিএফের মুল দলের অন্যতম সমন্বয়ক অস্ত্রসহ আটক। ২০ এপ্রিল রাঙ্গামাটিতে পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার। ২৩ এপ্রিল রাজস্থলীতে ইউপি মেম্বার মংক্যসিং মারমাকে অপহরণ।
৮ মে রাঙ্গামাটির বরকলে ছুরিকাঘাতে এক নির্মাণ শ্রমিক নিহত। ১২ মে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে দেশীয় এলজিসহ দুইজন আটক। ২০ মে রাঙ্গামাটির বাঙ্গালহালিয়াতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবলীগের নেতা নিহত। ২১ মে রাঙ্গামাটি লংগদুতে দেশীয় অস্ত্রসহ এক চাঁদাবাজ আটক। ২৮ মে রাঙ্গামাটিতে এক ব্যবসায়ীকে দুর্বৃত্তদের হামলা, আড়াই লক্ষে টাকা লুট। ৩০ মে রাঙ্গামাটির লংগদুতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফের এক কর্মী নিহত।
১০ জুন বাঘাইছড়ির বাঘাইহাট-দীঘিনালা সড়কে চাঁদার দাবীতে মালবাহী ট্রাকে আগুন দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। ১২ জুন রাঙ্গামাটিতে ইউপিডিএফের সশস্ত্র শাখার সদস্য সুজন চাকমা আটক। ১৬ জুন রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে চাঁদাবাজী অভিযোগে ইউপিডিএফের ৩কর্মী আটক। ২০ জুন রাঙ্গামাটির মানিকছড়িতে অজ্ঞাতনাম যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার। ২৭ জুন বকরলের সুবলং এলাকায় জেএসএস (সংস্কারপন্থী) জেএসএস (মুলদল) মধ্যে গুলি বিনিময় নিহত-১।
১ জুলাই বাঘাইছড়ির করেঙ্গাতলী বাজারে ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতংকঃ ১৫জনকে অপহরণ, পরে ১০জনকে মুক্তি। ২ জুলাই কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনার রাইখালীর গবাছড়ায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে মা ও মেয়ে নিহত। ৩ জুলাই বাঘাইছড়ির সাজেকে সেনা অভিযানে ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপের ১জন আটক। ৫ জুলাই রাঙ্গামাটিতে যৌথবাহিনীর অভিযানে অস্ত্র ও এ্যামোনেশনসহ ইউপিডিএফ (মুলদল) সশস্ত্র সন্ত্রাসী দুই চাঁদাবাজ কালেক্টর আটক। ২৫ জুলাই কাপ্তাই হ্রদে ভাসমান অববস্থায় প্রেমিক যুগলের মরদেহ উদ্ধার। ২৭ জুলাই কাপ্তাইয়ে উপজাতীয় অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার। ২৯ জুলাই নানিয়ারচরে ইউপিডিএফের সশস্ত্র গ্রুপের এক চাঁদাবাজ আটক।
৬ আগষ্ট বাঘাইছড়িতে অস্ত্রসহ ইউপিডিএফ’র সহযোগী সংগঠনের সভাপতি গ্রেফতার। ১৪ আগষ্ট বাঘাইছড়িতে জে এস এস এম এন লারমা গ্রুপের দুই সদস্যকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ১৮ আগষ্ট রাঙ্গামাটির রাজস্থলীতে সেনা টহল দলের উপর সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ, গুলিবিদ্ধ হয়ে ১ সেনা সদস্য নিহত, অভিযানের সময় মাইন বিষ্ফোরণে ৩ সেনা সদস্য আহত। ২০ আগষ্ট বাঘাইছড়িতে জেএসএস দুই নেতা হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহভাজন একজন আটক। ২১ আগষ্ট বাঘাইছড়িতে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে দুই নেতার হত্যা মামলার আসামী আটক। ২৩ আগষ্ট বাঘাইছড়িতে সেনাবাহিনীর টহল দলের গাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলি, সেনাবাহিনীর পাল্টা গুলিতে ইউপিডিএফের শীর্ষ সন্ত্রাসী নিহত। ২৯ আগষ্ট রাঙ্গামাটি রাজস্থলীতে সেনা সদস্য হত্যার মামলার আসামী ক্যাইচিং মারমাকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী।
৪ সেপ্টেম্বর রাজস্থলীতে সেনাবাহিনীর হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাত মামলায় আরো একজন আটক। ৮ সেপ্টেম্বর রাজস্থলীতে সন্দেহজনক ২জনকে আটক করেছে যৌথ বাহিরী। বাঘাইছড়ি থানা ওসি মনজুরকে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি। ১৫ সেপ্টেম্বর রাঙ্গামাটির লংগদু থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিরিত সন্তু গ্রুপের সমর্থিত ২ গ্রামবাসীকে অপহরণ করেছে দুর্বৃত্তরা। ১৮ সেপ্টেম্বর বাঘাইছড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির এমএন লারমা গ্রুপের দুই কর্মী নিহত। ২০ সেপ্টেম্বর কাউখালীতে চাঁদা না দেয়ায় বটতলী সড়কে যান চলাচল বন্ধ, চাঁদা চেয়ে ব্যবসায়ীদেরও চিঠি। বাঘাইছড়িতে জেএসএস দুই কর্মীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সাবেক চেয়ারম্যান বড় ঋষি চাকমাকে প্রধান করে থানায় মামলা। ২৮ সেপ্টেম্বর চেক প্রতারণা মামলায় কাউখালী কলমপতি মৌজা হেডম্যান গ্রেফতার।
১১ অক্টোবর রাঙ্গামাটির রাজস্থলী দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত ১ জন। নিহত যুবক জেএসএস এর সক্রিয় কর্মী। রাঙ্গামাটিতে অস্ত্রসহ ইউপিডিএফ ও জেএসএস দলের দুই সক্রিয় কর্মী আটক। ২৩ অক্টোবর রাজস্থলীর অপহৃত হেডম্যান দ্বীপময় তালুকদারকে গুলি করে হত্যা, লাশ নিয়ে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ।
১৮ নভেম্বর রাজস্থলী উপজেলার দুর্গম বালুমুড়া মারমা পাড়ায় আঞ্চলিক সংগঠনের মাঝে বন্দুকযুদ্ধ, ৩ জন নিহত। ২০ নভেম্বর রাজস্থলীতে সন্ত্রাসীদের হামলায় ঠিকাদার আহত। ২১ নভেম্বর রাজস্থলী ৫ কিলোমিটার ক্যাংম্রং পাড়ায় সন্ত্রাসীদের আক্রমনে জুম চাষী গুরুতর আহত। ফাঁকা গুলি বর্ষণ, আতংকে এলাকাবাসী।
১ ডিসেম্বর রাঙ্গামাটির মগবান এলাকায় আঞ্চলিক দলের চাঁদা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে জেএসএস (সন্তু গ্রুপের) চীফ কালেক্টর বিক্রম চাকমা নিহত হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২২ বছর পূর্তিতে যা বলছে পাহাড়ের নেতারা ঃ-
২ ডিসেম্বর ২০১৯, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২২ তম বর্ষপূর্তি। পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় দু’দশকের সংঘাত বন্ধে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সরকার আর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল,যা পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি নামে অবহিত।

সরকারের পক্ষে জাতীয় সংসদের তৎকালীন চীফ হুইপ আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ ও উপজাতীয়দের পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় ওরফে সন্তু লারমা এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এর পর কেটে গিয়েছে ২২টি বছর। কিন্তু এখনো এ চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্কের শেষ হয়নি। চুক্তির দীর্ঘ ২২বছর পেরিয়ে গেলে ও এখনো থেমে নেই পাহাড়ে রক্তপাত।

চুক্তি স্বাক্ষরের ২২ বছর পেরিয়ে গেলেও চুক্তি পক্ষ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা পার্বত্য চুক্তি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, পার্বত্য শান্তিচুক্তি পুর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হলে পাহাড়ের সমস্যা কোন দিনও সমাধান হবেনা। তিনি জানান চুক্তির মূল ধারাগুলো এখনো বাস্তবায়ন হয়নি, শান্তিচুক্তির পরও পক্ষে বিপক্ষে বিভেদ তৈরী হওয়ায় পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে থমকে দিয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে তাদের প্রত্যাশা এখনো অপূরণ রয়েছে বলে জানান পাহাড়ের এই নেতা।

চুক্তির বিষয়ে চাকমা রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় বলেন, ১৯৯৭ সালে যে ভাবে পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে ঠিক সেইভাবেই চুক্তি পুর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হলে সংকট নিরসন সম্ভব। তাই চুক্তি স্বাক্ষরকারী উভয় পক্ষকে একমত হয়ে কাজ করার আহবান জানান তিনি।

তবে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের আন্তরিকতার অভাব নেই দাবী করে সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ও রাঙ্গামাটি সাংসদ দীপংকর তালুকদার বলেন, শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের নামে পাহাড়ে সাধারন নীরিহ মানুষদের খুন,চাঁদাবাজি, অপহরণ এসব বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন চুক্তির বেশীরভাগ ধারাই বাস্তবায়ন করা হয়েছে অথচ তা অস্বীকার করছে জেএসএস। তিনি বলেন পাহাড়ে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের প্রধান অন্তরায় হলো অবৈধ অস্ত্র, এ অবৈধ অস্ত্র যতদিন থাকবে ততদিন পাহাড়ে শান্তি ফিরে আসবে না। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে সরকারকে সহযোগিতা করার আহবান জানান দীপংকর তালুকদার এমপি।

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রবীণ সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে মনে করেন, চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ের সাধারণ মানুষ যে শান্তির আশা করেছিল মানুষের সে আশা পুরোপুরি এখনো পুরণ হয়নি। পার্বত্যচুক্তি পূর্নাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হলে চুক্তি স্বাক্ষরকারী দুপক্ষকেই এগিয়ে আসতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

পাহাড়ের বিরাজমান সংঘাত বন্ধ করে পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে সরকার ও জনসংহতি সমিতি দু’পক্ষই আলোচনা মাধ্যমে সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এমন প্রত্যাশা পাহাড়ের শান্তিপ্রিয় মানুষের।