গ্রহণযোগ্য সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই

614

ড. কামাল হোসেন গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বাংলাদেশ সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা। সমকালীন রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন প্রথম আলোর সঙ্গে। তিনি বলেছেন, আমি এই সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলব। আদালতে যখন এর শুনানি (২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন) হলো, তখন যে তা সাময়িক বিবেচনায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, সেটা স্মরণ করাতে হবে। অসত্য বলে পার পাওয়াটাই আজকে সংবিধান, স্বাধীনতা ও মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার ওপর বড় আঘাত। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মিজানুর রহমান খান

প্রথম আলো: আপনি জাতীয় ঐক্যের যে কথা বলেন, তার ভিত্তি কী?
ড. কামাল হোসেন: ঐক্যই আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছে। কিসিঞ্জার তাঁর বইয়ে উল্লেখ করেছেন, ‘ইয়াহিয়ার প্রশ্ন ছিল অনেকের মতে আমি স্বৈরশাসক, আপনার কী মত? আমার (কিসিঞ্জার) উত্তর ছিল, আপনি স্বৈরশাসক হলে আপনার বিরুদ্ধে একচেটিয়া রায়সংবলিত এ রকম একটি বাজে নির্বাচন কীভাবে দিলেন? ইয়াহিয়া কেন নির্বাচন দিয়েছিলেন, তার উত্তর নিজেই দিয়েছেন, আমি তো ভেবেছিলাম, বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে না। বাঙালিরা পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াই করে বিভক্ত থাকবে।’ আজকের প্রেক্ষাপটে এটা আমাদের নিজেদেরই স্মরণ করিয়ে দেওয়া সমীচীন মনে করি।

প্রথম আলো: অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার হবে, তথ্যমন্ত্রী আমাদের বলেছেন, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতাকে সেই সরকারে নেওয়া হবে।
ড. কামাল হোসেন: এটা হবে পুরোপুরি প্রহসন। তিনটা মন্ত্রী নিয়ে জাপা কী রকম বিরোধী দল, তা আমরা সবাই বুঝি। এই বিরোধী দলের মতামত নেওয়ার কোনো দাম নেই। এটা সত্যকে মিথ্যা, মিথ্যাকে সত্য বলে চালানোর ভাঁওতা।

প্রথম আলো: আপনি আর আকবর আলি খান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এর আগে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তখন প্রধানমন্ত্রীকে রেখে নির্বাচনকালে নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে-এমন মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরানোর একটি বিষয় আলোচনায় এসেছিল।
ড. কামাল হোসেন: ক্ষমতাসীনেরা কীভাবে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করেন, সেটা এমনকি ২০০৬-০৭ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তৃতা-বিবৃতি থেকেই আপনি পেয়ে যাবেন। রাষ্ট্রপতিকে আমরা সেটাই বলেছিলাম। এখন আমরা নতুন করে সেটা খুলনা, গাজীপুর, বরিশাল ও সিলেটে প্রত্যক্ষ করলাম। এতে কোনো বিস্ময় নেই যে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।Eprothomalo

প্রথম আলো: এবারে রাষ্ট্রপতির কোনো উদ্যোগ আশা করেন?
ড. কামাল হোসেন: অনেকে হয়তো বলতে পারেন, না, তিনি একেবারে দলীয় ব্যক্তি হয়ে গেছেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটা বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে গেছে যে জনগণ সমীহ করতে পারে-এমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া তাঁর পক্ষে আদৌ সম্ভব। এমন মনে হচ্ছে কারণ, তাঁর আজকের যে অবস্থান, সেটা নিজেকে মৌলিকভাবে বদলে নেওয়ার শামিল। আদালতের বিষয়ে (ষোড়শ সংশোধনীর রায়) যেটা ঘটল, সেটা অভাবনীয়। আমার স্মৃতিতে যেটা উজ্জ্বল, সেটা হলো, তিনি (রাষ্ট্রপতি) একসময় বারে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছেন। তাই আমার মতো অনেকেই আশা করেছিলেন, তিনি নিজের আত্মমর্যাদা ও সংবিধান সমুন্নত রাখতে সংকল্পবদ্ধ থাকবেন। অথচ দেখা গেল, বিচারকদের কাছ থেকে চিঠি নেওয়া হলো যে, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তাঁরা বসবেন না।

প্রথম আলো: তার মানে তা অযথাযথ কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল?
ড. কামাল হোসেন: না, এর থেকে আমাকে কোনো শক্ত শব্দ ব্যবহার করতে দিন। ওটা ছিল সংবিধানের ষোলো আনা পরিপন্থী কাজ। এর মধ্য দিয়ে সংবিধান ভঙ্গ হয়েছে। সরকারি দলের হয়ে সুপ্রিম কোর্টকে এভাবে আঘাত দেওয়া যায়, তা বিশ্বাস করা যায় না। তাই আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে রাষ্ট্রপতি আদৌ কোনো বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নিতে পারেন, তা বিশ্বাস করা কঠিন।

প্রথম আলো: নির্বাচনী অনিয়ম সত্ত্বেও সিলেটে বিরোধী দলের বিজয়কে কীভাবে দেখছেন?
ড. কামাল হোসেন: বরিশাল ও রাজশাহীতে কীভাবে নির্বাচন হয়েছে, তাতে মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন। দুটি নির্বাচনই বিরোধী দল নির্বাচনের দিন বর্জন করেছে। কারণ, রিপোর্ট পাওয়া গেছে, ওই নির্বাচন অবাধ হয়নি। এভাবেই যদি নির্বাচন হয়, তাহলে জাতীয় নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু হতে পারে না।

প্রথম আলো: কিন্তু সিলেটের বিষয়ে কী বলবেন?
ড. কামাল হোসেন: বিরোধী দল জিতেছে ঠিকই। কিন্তু অনিয়মের যেসব অভিযোগ উঠেছে, তা কম গুরুতর নয়।

প্রথম আলো: তাহলে আমরা কীভাবে অগ্রসর হব? এমন অভিযোগ চলতে থাকলে কী হতে পারে?
ড. কামাল হোসেন: আমাদের দুর্ভাগ্য। এ রকম সংকটের কারণে অন্য অনেক রাষ্ট্র বিপর্যস্ত ও দুর্বল হয়ে পড়েছে। অনেক শক্তিশালী রাষ্ট্রকে আমরা চোখের সামনেই বিধ্বস্ত হতে দেখেছি।

প্রথম আলো: গণতন্ত্র, না উন্নয়ন-কোনটিকে অগ্রাধিকার দেবেন?
ড. কামাল হোসেন: এটা অসম্ভব, আপনার এই যুক্তি আমাকে ক্ষুব্ধ করে তুলছে। উন্নয়নের এই গান আমরা আইয়ুব খানের আমলে শুনেছিলাম। আমরা জীবিত আছি। আপনারা তো আইয়ুব খানকে ভুলে গেছেন। আমরা আইয়ুবকে এখনো হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করি। তিনি বলতেন, তাঁরা গণতন্ত্র চান, আর আমি উন্নয়নের কথা বলি। ‘উন্নয়নের দশক’ ঘোষণা করে তিনি উন্নয়নের পরিসংখ্যান দিতে ভালোবাসতেন। তিনি আশ্বস্ত করেছিলেন যে আমরা শিগগিরই মিসরকে ছাড়িয়ে যাব। এসবের বিরুদ্ধে বক্তৃতা করেই কিন্তু আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। আমরা মানুষকে বুঝিয়েছি, উন্নয়নে মিসরকে ছাড়ালেও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ছাড়া যাবে না।

প্রথম আলো: কিন্তু অস্বীকার করা যাবে কি যে আওয়ামী লীগের শাসনামলে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটেনি?
ড. কামাল হোসেন: এখানে সরকারের বা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার অবদান নগণ্য বা নেই, এই উন্নয়ন মানুষ করেছে। এর সঙ্গে গণতন্ত্র না থাকার কী অবদান আপনি দেখতে পান?

প্রথম আলো: কারও মতে স্বৈরতন্ত্র বা কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র হিসেবে মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুরের উন্নয়ন…
ড. কামাল হোসেন: না, ওসবের তুলনা একেবারেই আনবেন না। যাঁরা স্বৈরতন্ত্র চালান, তাঁরাই মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এভাবে ভুল ব্যাখ্যা করেন। আর ওসব দেশে কী ধরনের স্বৈরতন্ত্র ছিল, সেটাও একটি বিবেচ্য বিষয়। আর এটাও দেখার বিষয়, সেখানে কীভাবে ও কেন উন্নয়ন হয়েছে, সেটা স্বৈরতন্ত্র যদি থাকেও সেই কারণে তা হয়েছে, তা কে বলেছেন, কে বা কারা কবে মেনেছেন। বলা যেতে পারে, ওই সব দেশের উন্নয়ন স্বৈরতন্ত্র থাকা সত্ত্বেও হয়েছে, অবশ্যই স্বৈরতন্ত্রের জন্য হয়নি। ২০১৮ সালে আপনি আমাকে এই প্রশ্ন করবেন এবং আমাকে তার উত্তর দিতে হবে, এটা অনভিপ্রেত। কারণ, বাঙালি জাতি হিসেবে এসব ধারণা তো আমরা বহুকাল আগেই প্রত্যাখ্যান করেছিলাম।

প্রথম আলো: আসন্ন নির্বাচনে বিরোধী দলের সভা-সমিতি করার অধিকার দেশে কতটা কার্যকর হতে পারে বলে মনে করেন?
ড. কামাল হোসেন: সরকার শপথবদ্ধ ছিল, তারা সভা-সমাবেশ ও মত প্রকাশের অধিকারের সুরক্ষা দেবে। কিন্তু তারা তা বন্ধ করে দিয়ে একটি বিশেষ অবস্থা তৈরি করেছে। ইদানীং নির্বাচনকালে যেভাবে ধরপাকড়, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চলে, সেটা কেন করা হচ্ছে? বিরোধীদলীয় কত লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কত লোককে আটকের হুমকি দেওয়া হয়েছে, জেলাওয়ারি তার তালিকা ছাপানো উচিত। আমরা দেখছি, একদিকে জামিনের পরে জামিন, অন্যদিকে মামলার পর মামলা। বিবেক ও গণতন্ত্র না থাকলে তো এভাবে শত মামলা দিয়ে তো শত বছর কাউকে জেলে পুরে রাখা যায়।

প্রথম আলো: সার্বিক বিচারে বর্তমান সরকারের অধীনে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই অনেকের মতে কম ক্ষতিকর বা বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক পদক্ষেপ?
ড. কামাল হোসেন: আমি এই সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলব। আদালতে যখন এর শুনানি (২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন) হলো, তখন যে তা সাময়িক বিবেচনায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, সেটা স্মরণ করাতে হবে। অসত্য বলে পার পাওয়াটাই আজকে সংবিধান, স্বাধীনতা ও মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার ওপর বড় আঘাত। অনেক প্রবীণ আওয়ামী লীগার দুঃখ করে বলছেন, আওয়ামী লীগকে এভাবে দেখতে হবে, সে জন্য আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, এটা বড় আফসোস ও গভীর লজ্জার। ৫০ বছরের বেশি সময় আওয়ামী লীগ করার পরিণতি কি এটাই। বঙ্গবন্ধুর নামে এসব তাঁরা করবেন, তা-ও দেখতে হবে। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার দায়িত্ব আপনাদের।

প্রথম আলো: আপনি যে অধ্যাপক বি. চৌধুরী প্রমুখের সঙ্গে ঐক্য প্রক্রিয়া বা যুক্তফ্রন্টের মধ্যে আছেন, সেটা যদি পরিষ্কার করেন-
ড. কামাল হোসেন: না, আমি তাঁর সঙ্গে মিলে কিছুই করিনি। আমি বি. চৌধুরীর সঙ্গে মিলে বলেছিলাম, আমরা একটি ঐক্যের আপিল করি, এর থেকে বেশি কিছু নয়।

প্রথম আলো: আগামী নির্বাচনে আপনার দল কত আসনে প্রার্থী দিতে পারে?
ড. কামাল হোসেন: আপনি বারবার ইলেকশন কথাটি ব্যবহার করছেন, কিন্তু কী করে? এটা প্রহসন। নির্বাচনের নামে একের পর এক যে প্রহসন চলছে, সেখানে ইলেকশন শব্দ বলাটাই অন্যায়।

প্রথম আলো: একটা কথা বলা হয়, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি ও তাদের সহযোগী স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় আসবে।
ড. কামাল হোসেন: এটা অর্থহীন। কেন চলে আসবে। সুষ্ঠু নির্বাচন দিলে স্বাধীনতাবিরোধীরা আসবে, এটা কোনো কথা হলো। একাত্তর মানুষ ভুলে যাবে? আমরা সবাই কি মরে গেছি? এটা দেশের মানুষের বিরুদ্ধে একটা কটূক্তি।

প্রথম আলো: নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ আছে? কোনো চীনা রাষ্ট্রদূত প্রথমবারের মতো ইনক্লুসিভ নির্বাচনের কথা বললেন।
ড. কামাল হোসেন: বৃহৎ শক্তিগুলো এখন নিজেদের অভ্যন্তরীণ অবস্থা সামলাতেই বেশি ব্যস্ত। আর সুষ্ঠু ও ইনক্লুসিভ নির্বাচনের কথায় কোনো নতুনত্ব নেই। এটা বিশ্বসম্প্রদায় সব দেশে সব সময় বলে থাকে। গত ৪৭ বছরে কোনো বিদেশি রাষ্ট্র কখনো এর বাইরে বলেনি। তাই একে আমি কোনো বাড়তি গুরুত্ব দেব না। আবার জাতিসংঘসহ সবাই যদি এটা অব্যাহতভাবে বলে যায়, তারা যদি বলতেই থাকে, তাহলে নির্বাচনকালীন গ্রহণযোগ্য সরকার প্রতিষ্ঠায় একটা বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
প্রথম আলো: দেশের অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যা তরুণ, নতুন আশাবাদ?
ড. কামাল হোসেন: নিশ্চয়ই। আমি সে জন্য ইতিহাস বলি, কারণ তরুণদের সত্যটা জানতে দেওয়া হয় না। বইয়ে তারা পড়তে পায় না। ৪০-৫০ বছর আগে কী ঘটেছিল, সেটা তারা পড়েও বুঝতে পারে না। স্বৈরশাসকেরা ভেবেছে তারা আজীবন থাকবে। এরশাদও ভেবেছিলেন। ভাবতেন সবাই তাঁর হাতে। অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতাম, বাংলার মানুষ তা মেনে নেবে না। ১৯৮৯ সালের শেষের দিকে ব্রিটিশ মন্ত্রী এরশাদের সঙ্গে দেখা করলেন। দুঃসাহস করে তখন সেই ব্রিটিশ মন্ত্রীকে বলেছিলাম, এরশাদ ১৫ সপ্তাহ টিকবে বলে মনে হয় না। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এ ১৫ বছর থাকবেন বলে এরশাদের একটি উক্তির সঙ্গে আমার ১৫ সপ্তাহের দাবির তথ্য ছাপা হয়েছিল। তা-ই ঘটেছিল।
বর্তমান ছাত্র আন্দোলন প্রমাণ করেছে যে তাদের বিবেক জাগ্রত এবং অন্যায়কে হটিয়ে দিয়ে পরিবর্তন আনার সংকল্প রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি যে তরুণসমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা চলমান থাকবে। আমি আশা করব, শিক্ষার্থীদের যেসব দাবি সরকার মেনে নিয়েছে, সেগুলোকে তারা দ্রুত বাস্তবায়ন করবে।
প্রথম আলো: আপনাকে ধন্যবাদ।
ড. কামাল হোসেন: ধন্যবাদ।

সংবাদ প্রথম আলো